ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ শাবান ১৪৪৫

বাজেট

বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩১ ঘণ্টা, জুন ৩, ২০২৩
বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ

ঢাকা: বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে ইতিবাচক অনেক কিছু রয়েছে, তবে বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস ফোরামের আয়োজনে শনিবার (০৩ জুন) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘পোস্ট বাজেট ডায়ালগ ফিসকাল ইয়ার ২০২৩-২৪’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইপিডিসি ফিন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম এবং স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোংয়ের পার্টনার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।  

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রণীত বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন আলোচকরা। এই বাজেটে ইতিবাচক অনেক কিছু রয়েছে তবে বাজেট বাস্তবায়ন করাটাই সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন তারা।  

ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এই বাজেটের আকার মোটেই বড় নয়। জিডিপির আনুপাতিক হারে বাজেট ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। আকার ছোট হলেও বাজেটের বাস্তবায়নই চ্যালেঞ্জের বিষয়। এছাড়াও জনগণের ওপর করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।  

মির্জ্জা আজিজুল আরো বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) রয়েছে, কর দেয় এর চেয়ে অনেক কম। এক্ষেত্রে টিআইএনধারীদের কর নিশ্চিত করতে হবে।  

প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অনেক রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। আছে নানা অর্জন আর প্রত্যাশার কথা। কিন্তু কোনো বিষয়েই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ড. সালেহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি করমুক্ত আয়ের সীমা যেটা সাড়ে ৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু দুই হাজার টাকা যা মিনিমাম কর ধরা হয়েছে এটা কেন রিটার্ন দিলেই দুই হাজার টাকা দিতে হবে। এটাকে আমার সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। ’ সেই সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ আদায়, বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতি হ্রাস এবং বিদেশ পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর।

অনেক চ্যালেঞ্জ ভারসাম্য করেই সরকারকে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে বলে মনে করছেন আইপিডিসি ফিন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম।  

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা রাস্তা-ঘাটসহ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাই সেই সঙ্গে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশে সুশাসন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিচার ব্যবস্থার উন্নতিসহ একটি ব্যবসা সহায়ক পরিবেশও চাই। ’ 

এছাড়াও প্রাইভেট সেক্টর যেহেতু সবসময়ই রাজস্ব আহরণে সরকারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে থাকে তাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সরকারের নিকট থেকে সহায়তা পায় সেটা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি।   

বাজেট পরবর্তী এই আলোচনা অনুষ্ঠানে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের গুরুত্ব, কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায়ের কৌশল এবং ইনকাম ট্যাক্স আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া। আলোচনা শেষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অতিথিরা।  

আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সিনিয়র লেকচারার তানিয়া আকতার।

 বাংলাদেশ সময়: ১৮২৯ ঘণ্টা, জুন ০৩, ২০২৩
এমআইএইচ/এসআইএস 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।