ঢাকা, সোমবার, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আদালত

পারিবারিক আদালত অবমাননায় মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা!

ইলিয়াস সরকার, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০২১
পারিবারিক আদালত অবমাননায় মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা!

ঢাকা: পারিবারিক আদালতকে অবমাননা করা হলে অবমাননাকারীকে মাত্র দুইশত টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এ কারণে সময়ের বাস্তবতায় পারিবারিক আদালত অবমাননায় শাস্তির এই বিধানটি সংশোধন করে আরও কঠোর করার কথা বলেছেন হাইকোর্ট।

উচ্চ আদালতের মতে, এক্ষেত্রে সিভিল জেল এবং পর্যাপ্ত জরিমানার বিধান প্রণয়ন সময়ের বাস্তবতা।

সরকারের নীতি নির্ধারক মহল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি শুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও আশা করেছেন হাইকোর্ট।

রাজশাহী-রংপুরের এক দম্পতির সন্তানের হেফাজত নিয়ে করা এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৭ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সম্প্রতি এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের এ বেঞ্চে পিতা-মাতার বিবাহ বিচ্ছেদ, মনোমালিন্য, দাম্পত্য কলহসহ বিভিন্ন কারণে শিশুদের হেফাজত সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হেবিয়াস করপাস(শিশুদের হাজির করতে রিট) মামলা পরিচালনা করতে হয়েছে এবং হচ্ছে। আদালত এ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে যে, পারিবারিক আদালতসমূহে শিশুদের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত সম্পর্কে মামলাসমূহ দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। আদালতের নজরে এসেছে যে, ২০১০ সাল, ২০১৪ সাল এবং ২০১৮ সালের দাখিলকৃত মামলাসমূহ এখনো বিচারাধীন।

দীর্ঘ সময় এ সব মামলায় বিচার চলমান থাকার বিষয়ে আদালত বলেন, শিশুদের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত সম্পর্কে মামলাগুলো এতো দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকা দুঃখ ও হতাশাজনক এবং ন্যায়-নীতির পরিপন্থী। এসব মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। এমতাবস্থায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৯ অনুযায়ী দেশের সব পারিবারিক আদালতসমূহকে শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত সম্পর্কিত মামলাসমূহ যাতে মামলা দায়েরের ৬(ছয়) মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলো।

আদালত বলেন, পারিবারিক আদালতসমূহের বিভিন্ন আদেশ বিশেষত শিশু সন্তানকে দেখা-সাক্ষাতের আদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষ মান্য করছেন না। ফলে তারা হাইকোর্ট বিভাগে এসে হেবিয়াস করপাস অধিক্ষেত্রে আশ্রয় গ্রহণ করছেন।

পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এর ধারা-১৯ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতকে অবমাননা করা হলে অবমাননাকারীকে মাত্র দুইশত টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সময়ের বাস্তবতায় পারিবারিক আদালত অবমাননায় শান্তির এ বিধানটি সংশোধন করে আরও কঠোর করা বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে সিভিল জেল এবং পর্যাপ্ত জরিমানার বিধান প্রণয়ন সময়ের বাস্তবতা। আদালত, প্রত্যাশা করে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি শুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

২০১১ সালে বিয়ে রংপুরের মেয়ে ও রাজশাহীর এক ছেলে বিয়ে করেন। পরে  ২০১৫ সালে তাদের ঘরে কন্যাশিশুর জন্ম হয়। কিন্তু দ্বন্ধের কারণে ২০১৮ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর মধ্যে শিশুটির মা পারিবারিক আদালতে একটি মামলা করেন।

কিন্তু শিশুটি তার বাবার কাছে ছিল। আর শিশুটিকে ফিরে পেতে চলতি বছরে হাইকোর্টে রিট করেন মা। তখন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট শিশুটিকে হাজিরে রুলসহ আদেশ দেন। ওই রুলের শুনানি শেষে আদালত রায় দেন। রায়ে পারিবারিক আদালতে শিশুটির মায়ের করা মামলাটি ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রায়ে আদালত মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি বিশেষত শিশু সন্তানের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উক্ত মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিশু সন্তানটি বাবার হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত দেন।

তবে মা রাজশাহীর বাসায় কিংবা রাজশাহী শহরের যেকোন স্থানে শিশু সন্তানের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ও একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। কিন্তু রাজশাহী শহরের বাইরে নিতে পারবেন না।

বাংলাদেশ সময়: ১২১১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০২১
ইএস/এনএইচআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa