ঢাকা, রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৬ মে ২০২৪, ১৭ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

ভারত-রাশিয়া চুক্তি

হবে পরমাণু চুল্লি, কপ্টার কারখানা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১২, ২০১৪
হবে পরমাণু চুল্লি, কপ্টার কারখানা ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৬টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এর মধ্যে ভারতে আরও অন্তত ১০টি পরমাণু চুল্লি তৈরি করবে রাশিয়া।

এছাড়াও রাশিয়া তাদের একটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার তৈরির কারখানা গড়বে ভারতে।

এখান থেকে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে। মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‌ এছাড়া প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানাও করবে রাশিয়া।

মাত্র ২২ ঘণ্টার সফরে ভারতে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এই সময়ের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভ্লাদিমির পুতিনকে সামনে রেখে ঘোষণা করলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অংশীদার।

ভারতের প্রতিরক্ষা আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ রাশিয়া থেকেই আসে।

যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পুতিন এমন এক মহান দেশের নেতা, যার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কোনও তুলনা হয় না।

মোদি জানান, সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‌ আলোচনা হয়েছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলি নিয়েও। ‌

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাশিয়া এদেশে একটি অত্যাধুনিক কপ্টার নির্মাণের কারখানা গড়তে রাজি হয়েছে।

এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, ১০টি চুল্লি গড়ার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে।

ভারতের অন্যতম বিতর্কিত কুডানকুলাম প্রকল্পে রাশিয়া ২টি চুল্লি গড়েছে। একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

পুতিন জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার বিদেশ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখা।

পশ্চিমি দুনিয়ায় রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে এই নিয়ে বেশ কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে ক্রিমিয়ার রাশিয়ায় যোগদান ঘিরেই পশ্চিম দুনিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার এই দূরত্বের সূচনা।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হাজির ছিলেন ক্রিমিয়ার প্রধান সের্গেই আকসিয়োনভ। তিনি ক্রিমিয়ায় ভারতীয় লগ্নি টানতে উৎসাহী বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে কয়েকদিন আগেই আমেরিকার ‘হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভ’ এ বিপুল ভোটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এই প্রস্তাবে বলা হয়, রাশিয়া তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির প্রতি সাম্রাজ্যবাদী ব্যবহার করছে। পশ্চিমি দুনিয়ার অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই এই ঘটনাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতে আসার আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের উপর থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির নিষেধ তুলে নিয়েছে মস্কো। পাকিস্তান এবং মস্কোর মধ্যে হেলিকপ্টার বিক্রির চুক্তি হয়। এই নিয়ে ভারতে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।

মনে করা হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সামঞ্জস্য রক্ষার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির কুশলী পদক্ষেপ।

একদিকে যেমন আমেরিকা ও রাশিয়া দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের জোট নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখলেন মোদি, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার চুক্তি হবার পর দেশের ভেতর ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল তারও জবাব দিলেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, ১২ ডিসেম্বর , ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।