ঢাকা: মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির সম্পৃক্ততা আছে কি না তা তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলায় আফ্রিদির জামিন শুনানির পর তিনি এ কথা বলেন।
আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, মুনিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৌহিদ আফ্রিদির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যা দেখছি, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তিনি সবকিছু খতিয়ে দেখবেন।
এর আগে দুপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান। আসামিপক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৪ আগস্ট রাতে তৌহিদ আফ্রিদিকে সিআইডির একটি দল বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফরাজানা হক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটায় আসামিদের ছোড়া গুলি আসাদুলের বুকে ও ডান পাশে লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নাম্বার এজাহারনামীয় আসামি।
এর আগে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে আফ্রিদির বাবা নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন এ মামলায় তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
কেআই