ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আইন ও আদালত

সাক্ষীর অভাবে থেমে আছে ৬ ছাত্র হত্যা মামলা

মবিনুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২৭ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৪
সাক্ষীর অভাবে থেমে আছে ৬ ছাত্র হত্যা মামলা

ঢাকা: সাক্ষীর অভাবে থেমে আছে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলারচরে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটি।

২০১৩ সালের ৮ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের পর গত সাড়ে ১০ মাসে বাদী সাভার থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া মামলার কার্যক্রম কার্যত থেমে আছে।



গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন অসমাপ্ত সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য দেওয়ার পরই তিনি সাভার থানা থেকে বদলি হয়ে যান। এরপর গত ৫টি তারিখে তিনি আর সাক্ষ্য দিতে আসেন‍নি।

এর মাঝে মামলার আসামিদের একজন রাশেদ গত ৩ এপ্রিল মারা গেলে সাভার থানায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি সাভার থানা পুলিশ।

সংশ্লিস্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাকিলা জিয়াছমিন মিতু বাংলানিউজকে বলেন, মৃত আসামির প্রতিবেদন সাভার থানা পুলিশ আদালতে না পাঠানো পর্যন্ত কোনো সাক্ষী এলেও এখন আর সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ মামলার ৬০ জন আসামির মধ্যে ৪৬ জন জামিনে, ৯ জন পলাতক ও ৪ জন কারাগারে আটক আছেন। একজন আসামি রাশেদ মারা গেছেন।

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে।

২০১৩ সালের ৭  জানুয়ারি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ (চার্জশিট) দাখিল করেন। গত বছরের ৮ জুলাই এ মামলার ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত।

ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভিকটিম আল-আমিনকে একই ঘটনায় দায়ের হওয়া ডাকাতি মামলা থেকেও সেদিন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটভূক্ত ৬০ আসামি হলেন, ডাকাতি মামলার বাদী আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বর, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহর ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা, আ. হালিম, আসলাম মিয়া, শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম, মো. ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার হোসেন, শামসুল হক ওরফে শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার, সেলিম, মনির, ছাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নূর ইসলাম, আনিস, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল, মাসুদ, নিজামউদ্দিন, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশা মিয়া, তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী, দুলাল ও আলম।

এ মামলায় চার্জশিটের সাক্ষীর সংখ্যা ৯২ জন। আসামিদের মধ্যে ১৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শব-ই-বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলারচরে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ছয় কলেজ ছাত্রকে।

নিহতরা হলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাপললিফের  এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শামীম (১৮), মিরপুর বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ (২০), একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১), উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবির মুনিব (২০)। তারা পরস্পরের বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতদের সঙ্গে থাকা আরেক বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৩২২ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa