ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

পদ্মায় নৌকা ডুবে কিশোর নিখোঁজ, ৫ দিনের ব্যবধানে ৩ শিশুর প্রাণহানি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
পদ্মায় নৌকা ডুবে কিশোর নিখোঁজ, ৫ দিনের ব্যবধানে ৩ শিশুর প্রাণহানি

রাজশাহী: রাজশাহীর উপজেলা বাঘায় মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদীতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় টিনের ডিঙি নৌকা ডুবে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।

নিখোঁজ কিশোরের নাম আসাদ হোসেন (১৮)। আসাদ হোসেন উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের দাদপুর চরের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। ডিঙি নৌকা নিয়ে সে আজ দুপুরে পদ্মায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তার অপেক্ষায় স্বজনরা এখনো চরাঞ্চল পেরিয়ে সেই পদ্মাপাড়েই অবস্থান করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে ডিঙি নৌকা নিয়ে চকরাজাপুর পদ্মা নদীর খেয়াঘাটের পশ্চিমে মাছ ধরতে যায় আসাদ। সে নৌকা নিয়ে নদীর মাঝামাঝি পৌঁছাতেই স্রোতের তোড়ে ডুবে যায়। এ সময় নদীতে থাকা অন্যরা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত তলিয়ে যাওয়ায় তাকে আর উদ্ধার করা যায়নি।

আসাদের ভাই কায়েস উদ্দিন বলেন, পদ্মায় মাছ ধরেই তারা সংসার চলে। এই কারণে ছোট ভাই আসাদ আজ ডিঙি নৌকা নিয়েই দুপুরে মাছ ধরতে যায়। নিষেধ করলেও তার কথা না শুনে মাছ ধরতে গিয়ে পদ্মায় ডুবে গেছে তার ছোট ভাই। আর সে এখনো নিখোঁজ আছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নৌকা ও জাল নিয়ে জেলেসহ স্থানীয় লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম বাবুল মনোয়ার দেওয়ান বলেন, স্থানীয় জেলেরা নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধার করতে না পারায় বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। ডুবুরি দলটি ঘটনাস্থলে এলে উদ্ধার কাজ আবারও শুরু হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদরদপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবু সামা বলেন, পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কিশোর ডুবে গেছে। তার নিখোঁজের খবর পেয়েই ডুবুরি দলকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পৌঁছেই তারা তাকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালানা করবেন।

এর আগে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাঘার পদ্মা নদীর মুশিদপুর এলাকার খেয়াঘাটে অদূরে ডুবে মারা যায় উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের সুজন আলীর ১০ বছরের ছেলে সিয়াম হোসেন সজীব।

এর আগে রোববার (১৪ এপ্রিল) মানিকের চর এলাকার পদ্মায় গোসল করতে নেমে আট বছরের শিশু জান্নাত খাতুন ও ১২ বছরের শিশু ঝিলিক খাতুন মারা যায়। তবে পর দিন সোমবার (১৫ এপ্রিল) জান্নাত খাতুনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও ঝিলিক খাতুন এখনো নিখোঁজ আছে। জান্নাত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাংলাবাজার চর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম মণ্ডলের মেয়ে। আর ঝিলিক চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পাটগ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। জান্নাত খাতুন ও ঝিলিক খাতুন পরস্পর ফুপাতো মামাতো বোন।

তারা মানিকের চরের আবদুল মান্নানের মেয়ে হালিমা খাতুনের বিয়ে অনুষ্ঠানে এসে পদ্মায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
এসএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।