যশোর: ইয়াবা দিয়ে একজন মাংস ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টায় বিক্ষুব্ধ জনতা যশোরে পুলিশের দুজন সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল বড়বাজার কাঠেরপুলের দক্ষিণ মাথায় মাংসের দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
যশোর শহরের বড়বাজার কাঠেরপুলের দক্ষিণ মোড়ে সারি সারি মাংসের দোকান। দোকানগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সবসময় সরগরম থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি মাংসের দোকানে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হাজির হন কোতয়ালি থানায় কর্মরত কনস্টেবল শিশির ও সদর ফাঁড়ির কনস্টেবল আনোয়ার।
ওই দুই কনস্টেবল মাংস ব্যবসায়ী শামিমের দেহ, ব্যাগ ও দোকান তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে তারা দোকানের শার্টারের ওপর থেকে কিছু ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে শামিমকে আটক করে নিয়ে যেতে চান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
জনতা পুলিশের দুই সদস্যকে ঘিরে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে কনস্টেবলরা বিষয়টি ফোনে তাদের কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি, ডিবিসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা দুই কনস্টেবলকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। সেসময় উত্তেজিত জনতা ওই দুই কনস্টেবলের ওপর হামলার চেষ্টাও করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে সবকিছুই অবগত আছি। কিন্তু আমি তো স্পোকসপার্সন না। তাই কিছু বলতে পারবো না। ’
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রাইমারি রিপোর্ট হলো, দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা ঠিক না। ’
যশোরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘কাঠেরপুলের একটি মাংসের দোকানে ইয়াবা আছে বলে গোপন খবর পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম সেখানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে কিছু ইয়াবা উদ্ধারও করা হয়। ’
অফিসার ছাড়া দুই কনস্টেবল কোনো অভিযান চালাতে পারেন কি না-এমন প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত এসপি বলেন, সেখানে অফিসারের নেতৃত্বে মোবাইল টিমও গিয়েছিল। এই ঘটনায় যে বা যারা দোষী হোক না কেন, কাউকেই নিষ্কৃতি দেয়া হবে না।
যে ব্যক্তির দোকান থেকে ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হচ্ছে, নথিপত্র ঘেঁটে তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে দ্রুতবিচার আইনে একটি মামলা থাকার রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যশোরে যত্রতত্র মানুষের কাছে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে গ্রেপ্তার করে মামলা ও অর্থবাণিজ্যের ঘটনা ঘটতো। সেসময় বেশ কিছু জায়গায় এমন ঘটনা ঘটাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা জনতার রুদ্ররোষে পড়ে মারপিটের শিকারও হন।
হাসিনা পালানোর পর জেলা পুলিশে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যশোরে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ এই প্রথম।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এসএইচ