ঢাকা, রবিবার, ২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

রংপুরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৫
রংপুরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

রংপুর: রংপুরের বদরগঞ্জে ভাড়াটিয়া ও দোকান মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সশস্ত্র সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

 

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম লাভলু মিয়া (৫০)। তিনি আজ বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। লাভলুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে রায়হান আলী।

আহতদের মধ্যে লাভলুসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহত নয়জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, লাভলু আমার পারিবারিক সদস্য ও নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তাকে অন্যায়ভাবে বদরগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক ও তার ছেলে তমালের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী।

তবে শহিদুল হক মানিক এই হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, তার ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার ছেলে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাভলু মিয়া (৫০), কাঁচাবাড়ি গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৫৫), ময়নাল হোসেন (২৫), বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল হোসেন (৫২), পাঠানপাড়ার মোন্নাফ হোসেন (৫০), মংলু মিয়া (৪০), মিতু হোসেন (৪২), জয়নাল হোসেন (৪৫) ও মুন্না খান (৪০)।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শাকির মুবাশ্বির বলেন, আহত নয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষ মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারায় আছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, মূলত বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি টিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহাম্মদ আলী সরকার অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের ছেলে তমাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন পোস্ট দেন। এতে তার (মোহাম্মদ আলীর) অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক বলেন, আমরা কোনো হামলা করিনি, কোনো গাড়ি ভাঙচুরও করিনি। সাবেক এমপি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা ফেসবুকে অপপ্রচার ছড়িয়েছিল। এ কারণে তার অনুসারীরা কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিল। প্রতিপক্ষ রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর ও টিনের দোকানে হামলা চালিয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক বলেন, তার লোকজন কোথাও কোনো হামলা করেনি। নিরপরাধ একজন টিন ব্যবসায়ীর দোকানে হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে শহীদ মিনারের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রতিপক্ষ এসে হামলা চালিয়েছে।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, মূলত একটা দোকানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ ও সেনা সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে আছেন। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে রংপুর জেলা বিএনপি।

তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর নিকট নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫

এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।