এদের কেউ নৌকার মাঝি হতে চান, আবার কেউ ধানের শীষ, কেউ লাঙ্গল প্রতীক পেতে চান। তাদের নিয়েই এবারের আয়োজন।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা):
এ আসনে বিএনপি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পরিবর্তে তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আ’লীগ থেকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ব্যারিস্টার নাঈম হাসান ও মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে আ’লীগের মনোনয়নের জন্য তাদের লড়াই করতে হবে বর্তমান সাংসদ মেজর (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সাথে। এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকার উপজেলাঘুরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর খান মডেল বহুমুখী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতি মোঃ সারোয়ার হোসেন বাবু। উত্তর জেলার প্রভাবশালী এ যুবলীগ নেতা তরুণ ভোটারদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বেশ জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):
এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদ মামলার কারণে নির্বাচন করতে না পারলে তার (কায়কোবাদ) মামা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শফিকুল ইসলাম অথবা তার ভাই কাজী মুজিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):
এ আসনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের লিফলেট বিতরণ করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও মনোনয়নের জন্য তাকে এ আসনে লড়তে হবে বর্তমান এমপি, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আবদুল মতিন খসরুর সাথে।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গত দু’মাস মাস ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. প্রাণগোপাল দত্ত। তাকে এ আসনে মনোনয়নের জন্য লড়াই করতে হবে বর্তমান এমপি, সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের সাথে।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ):
এ আসনে সম্প্রতি সাবেক এমপি কর্নেল(অব.) আনোয়ারুল আজিম পদত্যাগ করেছেন। তাই এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম(চৈতী কালাম)। তিনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সারোয়ার হোসেন বাবু। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, যতটুকু জানি আগামী সংসদ নির্বাচনে জনপ্রিয় ও উদ্যমী তরুণ নেতারাই দলীয় মনোনয়নের
ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। আমিও আশাবাদী।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ডা. প্রাণগোপাল দত্ত বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় নেত্রীর কাছে আমি মনোনয়ন চাইব। এটা আমার মনের সুপ্ত বাসনা। চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আমার মনে হয় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আরো কাজ করার সুবিধা আছে। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্যই কাজ করবো।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের বর্তমান সাংসদ, সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ বললেন, নির্বাচন এলে অনেকেই মাঠে নামে। এরা সুসময়ের পাখি। দুঃসময়ে এদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি সব সময় মাঠে আছি, থাকবো। নেত্রী এবারও আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম (চৈতী কালাম) বলেন, এ আসনে আমিই মাঠে আছি। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমার জনসম্পৃক্ততা রয়েছে। জনগণের সাথে আমার কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। দলীয় নেত্রী অতীতেও আমার উপর আস্থা রেখেছেন।
ভবিষ্যতে রাখবেন বলে আমি আশাবাদী। ভোটাররা কি ভাবছেন নবীন-প্রবীণ কিংবা বর্তমান জনপ্রতিনিধি যারাই প্রার্থী হোন নাকেন জনগণের পাশে থাকবেন এমন প্রার্থীদেরকেই বেছে নেবেন ভোটাররা।
চান্দিনার মাধাইয়া ইউনিয়নের ভোটার আরিফুল ইসলাম জানান, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে যায়। যে আমাদের সকল সমস্যা দূর করতে প্রতিশ্রুতি দেবেন তাকেই ভোট দেব। যদিও জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যান প্রার্থীরা।
তিতাসের কড়িকান্দি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক জানান, বাংলাদেশের দলগুলোর উচিত বয়স্ক, দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে তরুণ, জনপ্রিয় ও উদ্যমী নেতৃত্বকে সামনে আনা। যারা তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত করবে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স সৃষ্টি করবে।
দাউদকান্দি পৌর এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্রী ফারিয়া জাহান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হন। তাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে। তাই নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে চায় ভোটাররা।
বাংলাদেশ সময়: ০৯১৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৪, ২০১৭
জেএম