ঢাকা, রবিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

সারাদেশ

লক্ষ্মীপুরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চায় পরিবার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫:২৪, আগস্ট ৩০, ২০২৫
লক্ষ্মীপুরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চায় পরিবার মানববন্ধন

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাসহ বিভিন্ন জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘ ১০-১২ বছর অতিবাহিত হলেও গুম হওয়া ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

তাদের পথ চেয়ে রয়েছে পরিবারের সদস্যরা।  

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে 'মায়ের ডাক' নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এর সদস্যরাও অংশ নেয়।  

মানববন্ধনে লক্ষ্মীপুরে গুমের শিকার বিএনপি নেতা ওমর ফারুক, যুবদল নেতা ইকবাল মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন, রাজু ও আলমগীরের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।  

এসময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। একইসঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান।

ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আমার স্বামীকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।  

ওমর ফারুকের ছেলে ইমন ওমর বলেন, বিগত ১০ থেকে ১২ বছর আমরা সরকারের কাছে বার বার দাবি জানিয়েও কোনো বিচার পাইনি। গুমের শিকার মানুষগুলোর কোনো হদিস পাইনি। নতুন স্বাধীন দেশে এক বছর হয়ে গেল, আমরা আশা করেছিলাম, কিন্তু আমরা গুমের শিকার লোকজনদের সন্ধান পাইনি। আমার বাবা ওমর ফারুক সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দু'বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে তাকে গুম করা হয়।  

তিনি আরও বলেন, যারা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার চেয়েছি, সেটাও পাইনি। বর্তমানে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।  

হাজিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল হোসেনের ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, আমার বাবাকে ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও কোনো বাহিনীর কাছে তার সন্ধান পাইনি। ৫ আগস্টের পর গুমের শিকার অনেকে আয়না ঘর থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আমরা আশার আলো দেখেছিলাম, হয়তো আমার বাবাসহ অন্য গুমের শিকার লোকজনেরও হদিস পাওয়া যাবে। তাই গত এক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সন্ধান পাইনি। এ সরকারের কাছে আমাদের দাবি আমার বাবা মৃত না জীবিত, সেই সন্ধানটুকু যেন দেওয়া হয়।  

আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।