ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪৩০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

ট্রাভেলার্স নোটবুক

এথেন্স থেকে জাহিদুর রহমান

মন্দার বিপরীতে স্বপ্নে বিভোর জহিরুল

জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৫৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০১৬
মন্দার বিপরীতে স্বপ্নে বিভোর জহিরুল ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

এথেন্স (গ্রীস) থেকে: তীব্র আর্থিক সংকটে নাজুক গ্রীসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তাই ভালো থাকার কথা নয় ভাগ্য অন্বেষণে ইউরোপের এই দেশটিতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের।

বিদেশি সতীনেও কষ্ট নেই, আছে সুখ!

দলে দলে অনেকেই এ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। যারা আছেন, তারা নিজেদের ভিটে মাটি আ‍ঁকড়ে থাকার মতোই পড়ে আছেন পরিস্থিতির উন্নয়নের আশায়।

তাদেরই একজন জহিরুল হক।

রাজধানী এথেন্সের প্রাণকেন্দ্র ওমানিয়া দীপলারী থ্রি সড়কের চোখ আটকে পড়ে বাংলা সাইনবোর্ড দেখে। নুরি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি মালিকানা বদল হয়েছে। বাইরের সাইনবোর্ড না বদলালেও ভেতরে পরিচালিত হচ্ছে তিতাস বাংলা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। নিজের দেশের নদীর নামেই এই হোটেলের নাম দিয়েছেন জহিরুল। তবে বেশি খদ্দেরের আশায় বাংলার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়ান শব্দটা।

বাংলাদেশের রকমারি সব খাবারই মেলে এখানে। মাছ-ভাত থেকে মাংস। অবসরের আড্ডায় প্রবাসীদের জটলাও এই হোটেল ঘিরেই। দিন শেষে হোটেলটি ঘিরেই বসে প্রবাসীদের মিলনমেলা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুধল গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে জহিরুল হক (৪১)। এসএসসি পরিক্ষা দিয়েই ভাগ্য অন্বেষণে প্রবাসে চলে আসেন ১৯৯৬ সালে। তুরস্ক হয়ে চলে আসেন গ্রীসে। ছিলেন দর্জির দোকানে শেলাইয়ের কাজে। পরে হয়েছিলেন কাটিং মাস্টার।

অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় তাকেও। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের কাজ নেই। কমে গেছে ক্রয় ক্ষমতা। দেউলিয়া ঘোষিত দেশটিতে হু হু করে কমে গেছে অর্থনৈতিক চাহিদা। কমে গেছে বাড়িভাড়া থেকে মাসিক বেতন পর্যন্ত। যে কারণে নাগরিকদের সবাই যেন পিঠটান অবস্থায়।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বন্ধু জসিম উদ্দিনের পরামর্শে সমুদ্রের বাতিঘরের মতোই নতুন ব্যবসা খুলেছেন জহিরুল। হোটেল ব্যবসা। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা অবধি বাংলাদেশি থেকে শুরু নানা দেশের পর্যটকদের ভিড় জমে এখানে। তবে অধিকাংশ খাবারই বাংলাদেশি। স্বাদ আর গন্ধও তুলনাহীন।

গ্রীসের এথেন্সে বাংলাদেশি মালিকানাধীন যে কটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে সেগুলোর মধ্যে এটিই শীর্ষে।

মাসিক ছয়শ’ ইউরোতে ভাড়া নেয়া রেস্টুরেন্টটিতে দুজন কর্মীও বাংলাদেশি।

মাত্র চারমাস ধরে চালু হওয়া নতুন এ ব্যবসা ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন জহিরুল। যেহেতু এখন পর্যন্ত লোকশান হয়নি তাই তার প্রত্যাশাও বেশ।

বাংলাদেশি অনেকেই নিয়মিত ক্রেতা এই রেস্টুরেন্টের। তাই নতুন স্বপ্নে বিভোর জহিরুল। বাংলানিউজকে বলেন, তীব্র মন্দার মধ্যেই বেশ সস্তাতেই দোকানটি পেয়েছি। আশা করি এখান থেকেই ভালো কিছু করতে পারবো।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০১৬

জেডএম/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa