ঢাকা: মোহামেডানের হয়ে কোচিং অভিষেক সুখকর হয়নি এমেকা ইউজিগোর। তেমনি তিন দশক পর ফুটবলে ফেরা বিজেএমসিও আনন্দ করতে পারেনি।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সাদা-কালোদের খেলা মন ভরাতে পারেনি দর্শকদের। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই শুরু হয় বিজেএমসি ও মোহামেডানের লড়াই। বলের নিয়ন্ত্রণে অবশ্য এগিয়ে ছিলো বিজেএমসিই। কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক তিতুমীর চৌধুরী টিটুর নৈপূণ্যে প্রথমার্ধে অন্তত দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। ১৪ মিনিটে আব্দুল রশিদের স্কয়ার পাস থেকে বক্স মুখ থেকে আলফাজের কোনাকুনি শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন টিটু। ৪৫ মিনিটে ইসমাইল বাঙ্গুরার প্রচন্ড শট পাঞ্চ করে আরও একবার দলকে বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন টিটু।
দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে বিজেএমসির সঙ্গে সমান তালেই লড়ে যায় মোহামেডান। ৭৫ মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয় অধিনায়ক আলফাজের দল। মোহামেডানের নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় এইল চি অ্যান্থনিকে বল ছাড়াই ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বিজেএমসির খান শরীফ।
শিষ্যদের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মোহামেডানের নাইজেরিয়া কোচ। এমেকা বলেন, ‘পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নেওয়াই লক্ষ্য ছিলো। কিন্তু দল ভালো খেলতে পারেনি। পারফরমেন্স হতাশাজনক। যদিও বৃষ্টির কারণে স্যাতসেঁতে মাঠে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি দল। তবে এটাকে অজুহাত করতে চাই না। প্রথম ম্যাচ নিয়ে বেশি মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এছাড়া দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জের। এ মুহুর্তে সবার সহযোগিতা চাই। ’
দলের খেলা নিয়ে অসন্তুষ্ট নন বিজেএমসি কোচ জাকারিয়া বাবু,‘দল ভালো খেলেছে। জয় লক্ষ্য ছিলো। বলের নিয়ন্ত্রণেও আমরা এগিয়ে ছিলাম। গোলের অনেকগুলো সুযোগ পেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সেটা কাজে লাগাতে পারিনি। ’
এদিকে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধার কাছে পাত্তাই পায়নি কক্স সিটি। তিন স্ট্রাইকার মিঠুন, এমিলি ও সানডেকে ছাড়া খেলতে নেমেও শুরু থেকেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দলটির ওপর চড়াও হয় মুক্তিযোদ্ধা।
পাঁচ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা। গোলবন্যার সূচনা করেন আরিফুল ইসলাম। ২৫ মিনিটে ও ৪৩ মামুনুল, ২০ মিনিটে আরিফ, ৩৬ মিনিটে কাঞ্চন এবং ৩৮ মিনিটে শাকিল গোল করলে প্রথমার্ধেই ৬-০ গোলে এগিয়ে থাকে মুক্তিযোদ্ধা।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে মুক্তিযোদ্ধা। ৬২ মিনিটে সামির ওমারি ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন (৭-০)। এর আগের মিনিটে দশজনের দলে পরিণত হয় কক্স সিটি। বক্সের বাইরে এসে বল ধরে লাল কার্ড দেখেন কক্স সিটির গোলরক্ষক রাজন বড়–য়া। ৭৫ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মামুনুল। ৭৮ মিনিটে নাসির ও ৮৭ মিনিটে টিটু জালে বল জড়ালে ১০-০ গোলের বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মানিকের দল।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১১ ঘন্টা, জানুয়ারি ০২, ২০১২