ঢাকা, শনিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ শাবান ১৪৪৫

কৃষি

অতিবৃষ্টিতে আমন ধান ও সবজির ক্ষয়ক্ষতি

ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০২৩
অতিবৃষ্টিতে আমন ধান ও সবজির ক্ষয়ক্ষতি হেলে পড়েছে ধান।

মৌলভীবাজার: বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সারাদিন অনবরত বৃষ্টি হয়েছে।

সঙ্গে ছিল হিমেল হাওয়া। বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারেনি। ক্ষতি হয়েছে মৌসুমি সবজির। বৃষ্টি এবং বাতাসে নষ্ট হয়েছে মাঠের পাকা আমন ধান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা গ্রামের কৃষক ফজর মিয়া (৪৮) বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল।  রোববার (১৯ নভেম্বর) ধান কাটা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অবিরত বৃষ্টি ও বাতাসে ধান ক্ষেতে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রচুর ক্ষতি হয়ে গেল।

আশিদ্রোন ইউনিয়নের টিকরিয়া গ্রামের কৃষক মতিন মিয়া জানান, তিনি ছয় একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছিল। দুই একরে চিনিগুড়া ও চার একরে রঞ্জিত জাত। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেক ভালো ফলন হয়। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তোলা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

অশিদ্রোন ইউনিয়নের খোশবাস গ্রামের চাষি মো. শাকির আহম্মেদ জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে সোনালি আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিন পর আমি আমন ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলনও হয়েছিল। আশা করেছিলাম বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফসল ঘরে তুলতে পারবো। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যে বৃষ্টি ও বাতাস শুরু হয়ে শুক্রবার সারাদিনই বৃষ্টি ঝরছে।

প্রবল বাতাসে পাকা ধান নুয়ে পড়ছে এবং ঝরে পড়েছে অনেক ধান। এছাড়া পাকা ধান ক্ষেতে পানি জমেছে। এখন ধান কাটা যেমন কষ্টের তেমনি ধান কাটা শ্রমিকদের দিতে হবে দিগুণ মজুরি। প্রচুর ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ফসল নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছি বলে জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক বিপ্লব দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের গতি ছিল সর্বোচ্চ ৩ নটিক্যাল মাইল। এ ধরনের আবহাওয়া আরও ৪৮ ঘণ্টা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে আমনের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টির কারণে রবি সবজির বীজ তলার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলু চাষিদের।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) অতিবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, এ বছর মৌলভীবাজারে এক লাখ দুই হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ধান সম্পূর্ণ পাকতে আরও দুই সপ্তাহ লাগবে। তবে আগাম জাতের অনেক ধান কাটা হয়ে গেছে। এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় শীতকালীন সবজিও চাষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আমনের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাকা আমন ধান পানিতে ডুবে আছে। এছাড়া শীতকালীন সবজিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আশা করি দুই-এক দিনের মধ্যে তথ্য নিরূপণ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারব।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০২৩
বিবিবি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।