কলকাতা: আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুধু প্রচারের লড়াই আর মাঠে ময়দানে সভা সমতিতেই আটকে থাকছে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবার যুক্ত হচ্ছে পেসফোলজি’র নতুন এক দিগন্ত।
কি এই নতুন বিষয়, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নতুন হলেও ভারতের রাজনীতিতে এ নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচন প্রচার পদ্ধতি ঠিক হয়েছিল এই পদ্ধতিতে। আর এর কারিগর ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী ভারতীয় ‘পিকে’ অর্থাৎ প্রশান্ত কিশোর।
প্রশান্ত কিশোর প্রাথমিকভাবে শখের পেসফোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। এরপর তিনি ডাক পান মোদী শিবিরের তরফ থেকে। বলা হয় প্রচারের বিভিন্ন অংশ যেমন, ‘চায়ে পে চর্চা’, ‘মন কি বাত’, ইন্টারনেটে প্রচার, প্রতিটি সভায় জায়গায় বক্তব্যের ইস্যু সবই প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্ক প্রসূত। শুধু তাই নয় গোটা দেশ ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে নিরপেক্ষ ভাবে কথা বলে তাদের মনে দাগ কাটতে পারে এমন প্রচার পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন 'পিকে' এবং তার দলবল।
সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা গোতে নিতীশ কুমারের প্রচার ‘স্ট্র্যাটিজি’ বানিয়ে দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। আর ফলাফল বিহার বিধান সভায় অভাবিত জয়। এবার সেই প্রশান্ত কিশোর আসতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গে। যদিও সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এক প্রস্থ কথা হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের।
কি এই পেসফোলজি? পেসফোলজি ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’-এর একটি শাখা। যেখানে নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তার উপর পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। একটি ‘টিম’ এই কাজ করে। সেখানে থাকে এক বা একাধিক স্যাটিসটিক্স জনা মানুষ, থাকেন পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এই দলে অবশ্যই থাকেন একাধিক সামাজিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এমন মানুষ। তবে এদের সবাইকেই উক্ত নির্বাচন সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হয়।
পরপর দু’টি ভোটে এই নতুন ধারার সাফল্যের ফলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে পেসফোলজি-এর চর্চা করা মানুষের চাহিদা বাড়ছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই চর্চা নতুন নয়। গোষ্ঠী তৈরি করে শখের নির্বাচনি বিশ্লেষণের ধারা এখনও বজায় আছে। তবে পেশাদার হিসেবে যদি প্রশান্ত কিশোর পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের হয়ে নির্বাচনের প্রচার ‘স্ট্র্যাটিজি’-এর দায়িত্ব নেন তবে সেটা একটা নতুন ধারা তৈরি করবে এই কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৮ ঘণ্টা, ১১ নভেম্বর , ২০১৫
ভি.এস/আরএ