ঢাকা, বুধবার, ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম আদালতে অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত ভাবছে পুলিশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০১৪
চট্টগ্রাম আদালতে অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত ভাবছে পুলিশ ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আলামতখানা এবং রেকর্ড কক্ষের সামনে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে ‍পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দশ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আতংক সৃষ্টির জন্য কেউ আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।



চট্টগ্রাম আদালতে আগুনের ঘটনায় চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নাজির বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এদিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নিরাপত্তায়ও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের মত স্পর্শকাতর একটি মামলার রায় ঘোষণা হবে। এ মুহুর্তে নাশকতা সৃষ্টির অভিপ্রায় থেকে কেউ আগুন দিতে পারে, এ আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না। জিডি দাখিলের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তেই সবকিছু পরিস্কার করা হবে।

তবে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তে বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আলামতখানার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গাকে পরিত্যক্ত স্থানের মত করে রাখা এবং কোন ধরনের নিরাপত্তা না থাকার কারণে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আলামতখানায় যে কেউ অবাধে যাতায়াত করতে পারে। এ সুযোগে হয়ত কেউ অসতর্কতাবশত বিড়ি-সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলে যেতে পারে যা থেকে আগুন ধরে যায়। গভীর রাতে এ আগুন ধরলে ক্ষয়ক্ষতি আরও মারাত্মক হত।

নাশকতা বলে ধারণা করছেন কিনা জানতে চাইলে জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের নাশকতা বলে মনে হয়নি। নাশকতা হলে তো রেকর্ড রুমে দিতে পারত। তবে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা কিনা সেটা আমরা বলতে পারব না। ’

সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় আলামত খানা এবং তৃতীয় তলায় রেকর্ড রুমের সামনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন মামলার বেশকিছু আলামত পুড়ে যায়।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা পুড়ে যাওয়া আলামতের ‍তালিকা করছি। তালিকা সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দেব। ’

এদিকে সোমবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে আদালত ভবনে থাকা সব অস্থায়ী দোকানপাট, প্রবেশপথে থাকা দোকান ও ঝুপড়ি ঘরগুলোকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। লোকজনের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, ট্রাফিক ও প্রশাসন) মোহাম্মদ শহীদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।  

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ জানান, চট্টগ্রাম আদালতের নিচতলাকে তিনটি পয়েণ্টে ভাগ করে ৬ জন করে সার্বক্ষণিক পুলিশ দেয়া হয়েছে। আবার তিনতলায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচারিক আদালতকে ঘিরে তিনটি পয়েণ্টে আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসব পুলিশ সদস্য ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮,২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa