ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ইসকনের বিক্ষোভ সমাবেশ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২১
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ইসকনের বিক্ষোভ সমাবেশ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ইসকনের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: উজ্জ্বল ধর

চট্টগ্রাম: নোয়াখালী মন্দিরে পুরোহিত হত্যাসহ কুমিল্লা, চাঁদপুর, লামা, নোয়াখালী, ফেনী, পেকুয়া, বাঁশখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবালয়, মন্দির, বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর, লুটপাটসহ দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি।  

রোববার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নগরের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ইসকনের বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে নগর  ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ হাজার সনাতনী ভক্ত অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ হচ্ছে না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার আশার মুখ দেখেনি। দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত সনাতনী মঠ-মন্দিরগুলো সরকারি অর্থায়নে পুনর্নির্মাণ করতে হবে এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে নীরবতা পালনকারী প্রশাসনিক ব্যক্তিদের প্রত্যাহার করতে হবে। সব রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য গঠন করতে হবে। আর এই দায়িত্ব নিতে হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সুযোগ্য উত্তরসূরি মানববতার নেত্রী শেখ হাসিনাকে। সেই সঙ্গে দেশের সব প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতিকর্মীকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে শুধু হিন্দু নয় কোনো মানুষই নিরাপদ নন।  

ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী ও সাংবাদিক বিপ্লব পার্থের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, ইসকন প্রবর্তকের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌরদাস ব্রহ্মচারী, নগর পূজা কমিটির সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, বাগীশিকের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তপন কান্তি দাশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সনাতন ধর্ম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সজীব কুমার ঘোষ, ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক তারণনিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, কৈবল্যধামের ট্রাস্টি অজয় মিত্র সম্ভু, রমনা কালী মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা মিলন শর্মা, গোসাইলডাঙ্গা সৎসঙ্গ কেন্দ্রের প্রচার সম্পাদক ধনঞ্জয় দে, ইসকন মোহরা মন্দিরের অধ্যক্ষ সর্বমঙ্গল গৌরদাস ব্রহ্মচারী, মতিলাল স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক দেবাশীষ আচার্য, জাগো হিন্দু পরিষদের সভাপতি রুবেল কান্তি দে, সমাজ সংগঠক সুমন চৌধুরী, বাগীশিকের সাধারণ সম্পাদক ডা. অঞ্জন দাশ, তরুণ আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা, কাঞ্চন আচার্য, চট্টগ্রামের উদীয়মান যুব সংগঠক পিয়াল শর্মা, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বরূপ পাল প্রমুখ।  

পরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চেরাগি মোড় হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০২১
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa