ঢাকা, সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ মে ২০২২, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

১৪ লাখ ইয়াবার মামলায় বোট মালিকের কারাদণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
১৪ লাখ ইয়াবার মামলায় বোট মালিকের কারাদণ্ড প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম: নগরের পতেঙ্গা থানায় ১৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় বোট মালিক রাজীব দাসকে দুই ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও তিনজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।  

রোববার (২৩ জানুয়ারি ) বিকেলে চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত এ রায় দেন।

রাজীব দাস পলাতক রয়েছেন। কারাদণ্ডের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ।  

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে বন্দরের ১ নম্বর বয়ার অদূরে ‘এফবি রাজীব’ নামের কাঠের তৈরি একটি মাছ ধরার বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তা থামতে সংকেত দিয়েছিল নৌবাহিনী। কিন্তু ট্রলারটি কর্ণফুলী নদীর দিকে না এসে গতিপথ পরিবর্তন করে। এ সময় স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা ট্রলারটি নিয়ে আনোয়ারার পারকি সৈকতের দিকে চলে যায়। পরে বোটে তল্লাশি চালিয়ে স্কচটেপ মোড়ানো প্যাকেটভর্তি ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বোটটি নৌবাহিনীর ফ্লোটিলা জেটিতে (৪ নম্বর) নোঙর করা হয়।  

উদ্ধার হওয়া ইয়াবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা ১৪ লাখ ইয়াবা  উদ্ধারের ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ইয়াবা উদ্ধারের ৭ মাস পর একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মেট্রো-উপ অঞ্চলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক চৌধুরী ইমরুল হাসান। মামলায় বোট মালিক রাজিব দাশ ও তার ভাই খোকন দাশ এবং জাহাঙ্গীর আলম ও ট্রলারের মাঝি মো. সেকান্দারকে আসামি করা হয়েছিল। আদালতে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।

বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বাংলানিউজকে বলেন, পতেঙ্গা থানার ১৪ লাখ ইয়াবার মামলায় পলাতক বোট মালিক রাজীব দাসের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৫ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনের ২১ ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়  ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উভয় দণ্ড একত্রে চলার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় অন্য আসামি খোকন দাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সেকান্দার আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। জব্দকৃত বোট এফবি-রাজীব (লাইসেন্স নম্বর-৪৫২৮ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর এফ-৯০২৮) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa