ঢাকা, রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

ডেঙ্গু দমনে ‘ওলবাকিয়া মশাই’ সিঙ্গাপুরের প্রধান হাতিয়ার  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৫
ডেঙ্গু দমনে ‘ওলবাকিয়া মশাই’ সিঙ্গাপুরের প্রধান হাতিয়ার   লোকালয়ে ছাড়া হচ্ছে ওলবাকিয়া মশা। ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গু একটি দীর্ঘদিনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই রোগ দমনে নানা প্রচেষ্টা চালানোর পরেও আবহাওয়া ও ঘনবসতির কারণে প্রতিবারই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ২০১৬ সালে চালু হওয়া প্রজেক্ট ওলবাকিয়া দেশটিকে একটি নতুন ও কার্যকর সমাধানের পথে নিয়ে গেছে।

সিঙ্গাপুর সরকার বলছে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ বাড়িতে ওলবাকিয়া মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা । এই সম্প্রসারিত উদ্যোগের আওতায় ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রায় ৮ লাখ বাড়িতে এই মশা ছাড়া হবে।

২০১৬ সালে প্রজেক্ট ওলবাকিয়া চালু হওয়ার পর থেকে সিঙ্গাপুর ধাপে ধাপে দেশজুড়ে এই ওলবাকিয়া মশা ছাড়া হচ্ছে।

এই প্রকল্পের আওতায় ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া-সংক্রামিত পুরুষ এডিস এজিপ্টাই মশা ছেড়ে দেওয়া হয় যাতে তারা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়। এই মিলনের ফলে যে ডিম তৈরি হয়, সেগুলো ফুটে লার্ভা বের হয় না।

পুরুষ মশা কামড়ায় না এবং রোগ ছড়াতে পারে না, কারণ তারা শুধুমাত্র গাছের রস বা ফুলের মধু পান করে।

২০২২ সালের জুলাই থেকে দেশটিতে মাঠ পর্যায়ে বহুমুখী পর্যবেক্ষণ পরিচালিত হয়, যাতে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার, ডেঙ্গু ক্লাস্টার এবং এডিস মশার জনসংখ্যার ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়।

মাঠ পর্যবেক্ষণের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ওলবাকিয়া বাহক মশা ছাড়া হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ কম, কারণ সেই এলাকাগুলোতে এডিস এজিপ্টাই মশার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ছয় দশক ধরে চলমান প্রচেষ্টার ফলে, আজ সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী একজন মানুষের প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৯৬০ সালের তুলনায় দশগুণ কম।

দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও উন্নয়নের এই বিনিয়োগ পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন মন্ত্রণালয়কে এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার শেখার সুযোগ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর আরও বিস্তৃত প্রয়োগের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

এখন পর্যন্ত অগ্রগতি:

২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ২০২৬ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের ৫০ শতাংশ ঘর—প্রায় ৮ লাখ পরিবার—আবৃত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালে চালানো একটি বৃহৎ মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওলবাকিয়া-মশা ছাড়া এলাকাগুলোতে এডিস মশার সংখ্যা ৮০–৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

বর্তমানে, একজন নাগরিকের প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৯৬০ সালের তুলনায় দশগুণ কম।

সূত্র: সিএনএ

বাংলাদেশ সময়: ১০১৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৫
এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।