ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন কেরমানশাহ প্রদেশে জরুরি ত্রাণ পাঠাতে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১২ নভেম্বর) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে সবশেষ ৪৪০ জনের প্রাণহানি ও অন্তত সাত হাজার মানুষ আহতের খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তবে সেখানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না ইরান কর্তৃপক্ষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরিন জানিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেছেন। যাদের ঘর অক্ষত আছে তারাও একের পর এক আফটার শকের কারণে ভয়ে ফিরছেন না।
অন্যদিকে ইরানের জরুরি মেডিকেল সার্ভিস প্রধান পির হোসেন কুলিভান্দ বলেছেন, কেরমানশাহ প্রদেশে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
এলিট ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ডস করপোরেশনের (আইআরজিসি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জাফারি জানিয়েছেন, প্রাথমিক সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে আবাস, খাবার ও পানি।
ইরানের রেডক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকার রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানিসহ জরুরি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইরানে ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেরমান শাহ প্রদেশের সারপোল-ই জাহাব শহর। সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ শহরটিতেই অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইরিন। সংলগ্ন আটটি গ্রামও ভূমিকম্পে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এর প্রধান মোরতেজা সেলিম।
ইরাকের স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার শাসিত সুলাইমানিয়া প্রদেশের দরবানদিখান শহরে ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রদেশটির গভর্নর ওমর আহমেদ। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু। ভূমিকম্পে দরবানদিখান শহরের অনেক ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
রিখটার স্কেলে সাত দশমিক তিন মাত্রার ওই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েল, লেবানন থেকে শুরু করে কাতার এমনকি পাকিস্তানেও অনুভূত হয় ওই ভূমিকম্পের কম্পন। ভূমিকম্পের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও।
ইরাক-ইরানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৩৫, আহত ৪ হাজার
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৪,২০১৭
জেডএস