ঢাকা, বুধবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

ফিলিস্তিনে নির্যাতিত সাংবাদিকদের সমর্থনে বাংলাদেশে সংহতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
ফিলিস্তিনে নির্যাতিত সাংবাদিকদের সমর্থনে বাংলাদেশে সংহতি ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেছেন ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ফিলিস্তিনে নির্যাতিত সাংবাদিকদের সমর্থনে ঘোষিত আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়ে এই নিরবতা পালন করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।

এ সময় তাদের হাতে ফিলিস্তিনে নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের নাম দেখা যায়। পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন ফেস্টুন দেখা যায়।

নিরবতা পালন অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, আমরা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ফিলিস্তিনিরা একা নয়, আমরা প্রত্যেকে তাদের সঙ্গে আছি। সেখানে যে নৃশংস গণহত্যা হচ্ছে, এর প্রতিবাদ সারা বিশ্ব করছে। এটা সত্য পাশ্চাত্যের কিছু দেশ গাদ্দারি করছে, এমনকি মুসলিম কিছু কিছু দেশও গাদ্দারি করছে। সেখানে পৃথিবীর মানুষ যে ফিলিস্তিনিদের পাশে আছে, সেটা মনে করিয়ে দিতে চাই।

প্রতিবাদী সঙ্গীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান বলেন, সারা পৃথিবীতে আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ আমরা লাভ-ক্ষতির চিন্তা করি। আন্দোলনকে আমরা আমাদের মূল্যবোধে পরিণত করতে পারিনি। যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব, এটাই একটা অর্জন। একটি অন্যায় হচ্ছে, সেটার প্রতিবাদ করতে আমরা মানুষজনকে ডেকে আনতে পারি না। এটাই হচ্ছে মানবতার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। আমরা অন্যায়কে অন্যায় মনে করি না। প্রতিবাদ যেখানে সাধারণ আচরণ হওয়ার কথা, সেটাকে আমরা মহৎ কাজ বলে মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্যায়কে অন্যায় বলে চিনতে হবে। এটা শুধু নিজের দেশের মাটিতে না। সারা পৃথিবীতে যত রকমের অন্যায় হচ্ছে, সেটাকে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রতিবাদকে স্বাভাবিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। সেজন্য একজন মানুষও যদি কোথাও দাঁড়ায়, সেটাও একটি সফল প্রতিবাদ। কেননা আজকের পৃথিবীতে কেউই দাঁড়ায় না। প্রতিবাদ করা পৃথিবী ও মানবতার জন্য একটি কাজ ও দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে আমাদের এটা করার কথা। কিন্তু আমরা সেটা ভুলে যাচ্ছি। আর এর সুযোগ নিয়ে পৃথিবীতে জঙ্গিপনার উত্থান হচ্ছে। যারা মানবতার ঝান্ডাধারী তারা জঙ্গিপনা করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

এই আয়োজনের একজন উদ্যোক্তা ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক সামিয়া রহমান প্রিমা বলেন, ফিলিস্তিনে যুদ্ধের ময়দানে কলম ও ক্যামেরা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিহত হচ্ছেন এবং টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলিরা তাদের পরিবারকেও টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। আমরা আজ আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে যেটা ফিলিস্তিনে নির্যাতিত সাংবাদিকদের সমর্থনে ঘোষণা করা হয়েছে, এর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। এখানে ঢাকার সাংবাদিকরা সমবেত হয়েছেন। আমরা আজকে ইসরায়েলি যে বাহিনী আছে, ইসরায়েলের যে দখলদারিত্ব-আগ্রাসন তার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে ফিলিস্তিনে কর্মরত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
এসসি/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।