ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ সফর ১৪৪৩

সালতামামি

বরগুনার যত আলোচিত ঘটনা

শফিকুল ইসলাম খোকন, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
বরগুনার যত আলোচিত ঘটনা

বরগুনা: বিদায় নিচ্ছে ২০২০। আসছে নতুন বছর।

করোনার কারণে পুরো বছরই থমকে ছিল। দেশে দেশে লকডাউন আর করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেও অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা, আলোচনা-সমালোচনার বছর ছিল ২০২০।

দিনপঞ্জিকার শেষ পাতাটি যাবে উল্টে। নিশি অবসানে শুরু হবে ইংরেজি নতুন বর্ষ ২০২১ সালের প্রথমদিন। সদ্যই বিদায় নিচ্ছে পুরোনো খ্রিস্ট বছর। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) কৃষ্ণরাত পেরুলেই পরদিন পূর্বাকাশে দেখা দেবে নতুন বছরের সূর্য। তবে পৌষের কুয়াশামোড়া প্রকৃতির কারণে শিশির জমা দুবলা ঘাসে এবার সেই সূর্যালোকের ছোঁয়া নাও লাগতে পারে। কিন্তু ভোরের আলো ফুটুক বা কুয়াশাচ্ছন্নই থাকুক; বহু ঘটনার জন্ম দিয়ে মহাকালের পরিক্রমায় এরই মাঝে বিদায় নেবে আরও একটি বছর।

আনন্দ-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতা, আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-প্রবঞ্চনার হিসেব-নিকাশ পেছনে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে সবাই। আগামী দিনের নতুন স্বপ্নে পাখা মেলবে-সোনালি প্রত্যাশা। নানান কাজের ফিরিস্তি লেখা নিত্যসঙ্গী পকেট ডায়রিটাও সাবেক হবে। হিসাব-নিকাশও হবে। আর এ হিসাব-নিকাশে সারা দেশের মতো বরগুনাও রয়েছে আলোচিত ঘটনা। বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলার রায়সহ একাধিক আলোচিত ঘটনা দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২০ সাল।

প্রেমিকাকে সাত টুকরা: কলেজ শিক্ষকের ফাঁসির আদেশ: 
বরগুনায় চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী ফারিয়া আক্তার মালা হত্যা মামলার প্রধান আসামি কলেজ শিক্ষক আলমগীর হোসেন পলাশকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত।  

মামলার অন্য আসামি অ্যাডভোকেট বিপ্লব তালুকদারকে যাবজ্জীবন ও রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং ইভা রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।  

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন। আদেশের সময় আদালতে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কমল কান্তি দাস, আবদুর রহমান নান্টু ও হুমায়ুন কবির।  

আলমগীর হোসেন পলাশ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসণ্ডা গ্রামের মৃত লতিফ হাওলাদারের ছেলে। এছাড়াও বিপ্লব ও তার স্ত্রী ইমা রহমান এবং রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ আমতলী পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর মালাকে নিয়ে পলাশ তার ভাগ্নিজামাই আমতলীর হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. মাঈনুল আহসান বিপ্লব তালুকদারের বাসায় বেড়াতে আসেন। ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বিপ্লবের স্ত্রী তার ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মালাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন পলাশ। পরে লাশ সাত টুকরো করে ড্রামে ভরে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিপ্লব তালুকদারের বাসার ড্রাম থেকে নিহত মালার টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে এবং পলাশকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরের দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন পলাশ। তদন্ত শেষে পুলিশ এ মামলায় পলাশ, বিপ্লব, রিয়াজ ও বিপ্লবের স্ত্রী ইমা রহমানকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  

বরগুনার চাঞ্চল্যকর ফারিয়া আক্তার মালা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আলমগীর হোসেন পলাশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ শেষে হত্যা করায় ফাঁসির আদেশ এবং হত্যার পরে মরদেহ গোপন করায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার ২ নম্বর আসামি মাইনুল আহসান তালুকদার বিপ্লব মালাকে ধর্ষণ করায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মরদেহ ৭ টুকরো করে গোপন করার চেষ্টা করায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার ৩ নম্বর আসামি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ মরদেহ গোপনে সহযোগিতা করায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং বিপ্লবের স্ত্রী ইমা রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।  

চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যার রায়
বরগুনায় আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম রিফাত হত্যা। শুধু বরগুনাতেই নয় সারা দেশসহ দেশের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছে। আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ৪ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান ২০০ পৃষ্ঠার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি, রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় ও মো. হাসান।  

খালাস পেয়েছেন- মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বী, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন। রায়ের কয়েকদিন পর মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগাড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিরা ঢাকা কেন্দ্রীয় ও বরিশাল কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, একই বছর একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্কদের রায় দেন আদালত। বরগুনার চাঞ্চল্যকর আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ৬ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৪ জনকে ৫ বছর এবং এক জনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য ৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। ২৭ অক্টোবর বরগুনা জেলা নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।  

এর মধ্যে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী (১৭), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫),  মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান (১৬), মো. ওলিউল্লাহ অলি (১৬) মো. নাইম (১৭) ও মো. তানভীর হোসেন (১৭)।  

৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জয় চন্দ্র সরকার চন্দন (১৭), নাজমুল হাসান (১৪), রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫) ও মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ (১৭)। এছাড়া ৩ বছরের সাজা পেয়েছে প্রিন্স মোল্লা (১৫) নামে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামি। আর বেকসুর খালাস পেয়েছে মারুফ মল্লিক (১৭), রাতুল সিকদার জয় (১৬) ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সহযোগিরা। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান। এরপর রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৫- ৬ জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেছিলেন নিহত রিফাতের বাবা। পরে ০২ জুলাই ভোরে জেলা সদরের বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নয়ন বন্ড (২৫) নিহত হন।  

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষীর যাবজ্জীবন
ধর্ষণ করে মায়ের দ্বারা ধর্ষণ মামলার করিয়ে নিজে সাক্ষী হয়েও রেহাই পাননি সাবেক ইউপি সদস্য। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘটে এমন ঘটনা। আর এ মামলার রায়ে নিজেই ফেসে গেলেন। গণধর্ষণ মামলায় ওই মামলার সাক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ০১ নভেম্বর নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।  

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি গ্রামের সেকান্দার জোমাদ্দারের ছেলে কাকচিড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মো. এমাদুল হক। তিনি রায়ের দিনের আট মাস আগে থেকেই জেলহাজতে রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ওই একই গ্রামের খবির গাজীর ছেলে মোহসিন ও অহেদ খানের ছেলে মোয়াজ্জেম। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও খালাস পাওয়া আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের এক গৃহবধূ বরগুনা নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এমাদুল হক ৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন। প্রথমে গৃহবধূর অভিযোগ ছিল ২০১৫ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে প্রকৃতির ডাকে বসতঘর থেকে বের হলে খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা তার মেয়েকে ঘরের পেছনের সুপারি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই সময় আরও দু’জন তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। তিনি মনে করে ছিলেন তার মেয়ে পড়ার ঘরে বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি ঘুম থেকে উঠে তার মেয়েকে ঘরে না দেখে খুঁজতে গিয়ে মেয়ের জুতা ও ওড়না খুঁজে পান। সাক্ষী আমজেদ ঘরামীর সহায়তায় তিনি মেয়েকে সুপারি বাগান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষ করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এমাদুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ০৮ জুলাই অভিযোগপত্র দেন। পরে গৃহবধূ নারাজি দিলে খালাসপ্রাপ্ত আসামিরাও আসামি হয়। মামলা চলাকালীন বাদী জানতে পারেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে খালাস পাওয়া অন্য আসামিদের বিরোধ ছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গৃহবধূর মেয়েকে ধর্ষণ করে ওই খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করাতে সহায়তা করে।  

একপযার্য়ে বরগুনার পুলিশ সুপার ও বিচারিক আদালতে বাদী এফিডেভিট দাখিল করে বাংলানিউজকে বলেছিলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এমাদুল হক তার মেয়েকে ধর্ষণ করে খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করাতে বাধ্য করেছেন। আদালত বাদীর এফিডেভিট ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পযার্লোচনা করে এমাদুল হককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই মামলায় বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  

এএসআইকে চড় মেরে সমালোচিত বামনার ওসি
বরগুনার বামনা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলামকে চড় মেরে সমালোচিত হচ্ছেন একই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার।  

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এনিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তাকে হত্যার পর তার গাড়িতে থাকা তথ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত এবং পরে শিপ্রা দেবনাথকে আটক করে পুলিশ।  

সিফাতের মুক্তি দাবিতে তার নিজ জেলা বরগুনার বামনা উপজেলায় গত ০৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় সিফাতের সহপাঠীরা মানববন্ধন শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে ওই মানববন্ধনে মাইক কেড়ে নিয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে বামনা থানা পুলিশ। সে সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেরি হওয়ায় এএসআই)নজরুলকে প্রকাশ্যে চড় মারেন ওসি। এতে চারিদিকে উঠে সমালোচনার ঝড়। লাঠিচার্জে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।  

ইউএনওকে 'হত্যাচেষ্টা'র অভিযোগে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে
বরগুনার আমতলীতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ওই মামলায় যুবলীগ নেতাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গত ০৮ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে তিনি আমতলী লঞ্চঘাটে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন। পাশাপাশি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে কি-না, তা তদারকি করছিলেন। সে সময় দেখতে পান, ঢাকাগামী সুন্দরবন-৭ লঞ্চে ধারণক্ষমতার ৪ গুণ বেশি যাত্রী তোলা হয়েছে। আর কোনো যাত্রী না উঠিয়ে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি সুপারভাইজার মো. মইনুলকে নির্দেশ দেন। সে সময় মইনুল তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যান। মইনুলের পক্ষ নিয়ে এ সরকারি কাজে বাধা দেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুবলীগের নেতা আরিফুল হাসান। একপর্যায়ে তিনি হত্যার উদ্দেশ্যে ইউএনওর দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। পরদিন ০৯ আগস্ট বিকেলে আমতলী থানায় মামলা করেন ইউএনও মনিরা পারভীন। এতে আমতলী পৌর যুবলীগের সভাপতি আইনজীবী আরিফুল হাসানসহ (৩৩) মোট ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার অভিযোগ করা হয়।

স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতাদের অভিমত, ২০২০ সালটি মহামারি করোনা মতো দুর্ভোগ দেখতে হয়েছে বরগুনাবাসীর। তাছাড়া রিফাত হত্যা মামলাসহ অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা বরগুনাবাসীকে বেদনা দিয়েছে। নতুন বছরে এমন ঘটনা দেখতে চায়না বরগুনাবাসী।

ঈদের দিনে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
২০২০ সালে ঈদের দিন ২৫ মে বিকেলে বরগুনার পায়রা নদীর পাড়ে গোলবুনিয়া বল্ক ইয়ার্ডে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে যান হৃদয়। সে সময় পূর্বশত্রুতার পাশাপাশি হৃদয়ের সঙ্গে থাকা এক বান্ধবীকে অভিযুক্তরা উত্ত্যক্ত করলে হৃদয়ের প্রতিবাদ করেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে অভিযুক্তরা হৃদয়সহ তার কয়েক বন্ধুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলেও গুরুতর আহত হৃদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে সকালে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত হৃদয়ের মা মোসা. ফিরোজা বেগম।  

নিহত হৃদয়ের ওপর হামলার ঘটনার পরই পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে আটক করে। এ মামলায় আটক হওয়া ৭ জনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় ওই মামলায়। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনকে। গ্রেফতার হওয়া ৭ জন হলো- এ মামলার এক নম্বর আসামি নোমান কাজী (১৮), ২ নম্বর আসামি হেলাল মৃধা (২৬), ৬ নম্বর আসামি সাগর গাজী (১৬), ৭ নম্বর আসামি ইমন হাওলাদার (১৮), ৮ নম্বর আসামি রানা আকন (১৬), ১২ নম্বর আসামি সফিকুল ইসলাম ঘরামি (১৫) ও ১৫ নম্বর আসামি হেলাল ফকির (২১)। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa