ঢাকা, বুধবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয়

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও বর্তমান বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে তার সাবেক গৃহপরিচারিকাকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। যদিও দিনভর চেষ্টার পরও অভিযোগপত্র নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে তাকে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবিতে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা বেশ পুরানো। ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসার ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল হয়। এর আগে, ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন একই বিভাগে এক ছাত্রী। এছাড়া ২০১৯ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধান মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে ওই বিভাগের দুই ছাত্রী যৌন হয়রানিও অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে ওই গৃহপরিচারিকা বলেন, আমি শাহজাহান স্যারের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতাম। কাজ করার সময় তার স্ত্রী বাসায় না থাকলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিকভাবে আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। খারাপ উদ্দেশ্য প্রকাশ করতেন এবং আর্থিক প্রলোভন দেখাতেন। আমি নানা কৌশলে তার খারাপ উদ্দেশ্য থেকে বাঁচার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বাসা খালি থাকায় কখনো কখনো তা পেরে উঠিনি। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ রকম শ্লীলতাহানীর শিকার হয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি এবং একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকি।  

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীকালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে ঘটনাগুলো খুলে বলি এবং বিচার চাই। তারা আমাকে বলেন ‘আপনি যার কাছে বিচার চাইবেন তিনিই তো অপরাধী। ’ পরবর্তীকালে স্থায়ী ভিসি স্যার এলে করোনার বন্ধে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। আমি আশাবাদী আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানীর সুষ্ঠু বিচার তার কাছে পাবো।

থানায় বা আদালতে অভিযোগ না করে কিংবা মামলা না করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কেন অভিযোগ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই অভিযোগকারী বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আদালতে গেলে অনেক টাকা লাগতে পারে। তাই আমি উপাচার্য স্যারের কাছে বিচার চাইছি। ’

এদিকে, বুধবার ওই গৃহপরিচারিকা উপাচার্য বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করলেও অভিযোগপত্র নেননি উপাচার্য প্রফেসর ড. একিউএম মাহবুব। পরবর্তীকালে অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে জমা দিতে চাইলে যৌন প্রতিরোধ সেলও অভিযোগটি নেয়নি।

এ বিষয়ে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রধান মানসুরা খানম বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ নন। যে কারণে অভিযোগটি বিধিসম্মত না হওয়ায় তার অভিযোগটি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের ঘটেনি এবং ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়। তাই তার অভিযোগটি নেওয়া হয়নি। কারণ এ ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আমার নেই।

অভিযোগের বিষয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও বর্তমান বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন পদত্যাগ করার পর আমাকে ভারপ্রাপ্ত (রুটিন দায়িত্ব) উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সাবেক উপাচার্যের অনুসারীরা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এটাও তারই অংশ। মূলত আমাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা ও ন্যাক্কারজনক অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa