ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই নেতার দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পরবর্তী সময় পর্যন্ত থেমে থেমে চলে এ সংঘর্ষ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও গোটা মুনসুরাবাদ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক বাবর আলী মেম্বার (সাবেক) ও বর্তমান মেম্বার আলম মোল্লা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ (সমর্থক) এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা নিয়ে সংঘাত সংঘর্ষের পাশাপাশি মামলা চলছে। পূর্ব ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলম মোল্লা ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী গ্রুপের লোকজন ঢাল সড়কি, রাম দা, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় ইটের আঘাতে কমপক্ষে ৪০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের। গুরুতর আহতদের মধ্যে মধুদ, সম্রাট, নুরু ও সাব্বিরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ রহমান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ঘটনা নিয়ে বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্যর লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০২৫
জেএইচ