ঢাকা, রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাজনীতি

বাসদ থেকে পৃথক হওয়া দায়িত্বহীনতার প্রকাশ: খালেকুজ্জামান

উর্মি মাহাবুব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১৩
বাসদ থেকে পৃথক হওয়া দায়িত্বহীনতার প্রকাশ: খালেকুজ্জামান

ঢাকা: দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বাসদকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে দায়িত্বহীনতার প্রকাশ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

শুক্রবার বাসদ কার্যালয়ে বাংলানিউজকে এ কথা বলেন তিনি।

তবে  দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা পৃথক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সিপিবি-বাসদ ঐক্য বা বাম দলগুলোর ঐক্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগেও অনেকে দল ছেড়ে গেছেন। তাতে দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। দলের মধ্যে এরকম একটি সিদ্ধান্ত বাসদের অভ্যন্তরে সাময়িক প্রভাব ফেললেও তা বড় কোনো আকার ধারণ করবে না। ”

তিনি আরো বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন। বামদলগুলোর ওপর সাধারণ মানুষের আলাদা একটি আস্থা আছে। ”

তবে এই আস্থার ওপর আজকের সংবাদ সম্মেলনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।
 
মূলত শিবদাস ঘোষকে আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী আন্দোলনের অথরিটি না দেওয়ায়ই মুবিনুল হায়দার ও শুভ্রাংশু চক্রবর্তি দল থেকে  আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খালেকুজ্জামান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “শিবদাস ঘোষের কাছ থেকে আমরা অনেক শিক্ষা নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি। তবে তাকে আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী আন্দোলনের অথরিটি দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। ”
 
তিনি বলেন, “শিবদাস ঘোষকে আন্তর্জাতিক আন্দোলনের অথরিটি দেওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ৪০টি লিখিত পয়েন্ট বাসদের সামনে রেখেছিলেন। এ ৪০ টি পয়েন্টের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে উত্তর দেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য সদস্যরা। ”

মুবিনুল হায়দার চৌধুরী অভিযোগ করেন, “গত ১৮ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের ইস্যুতে সিপিবি-বাসদের ডাকা হরতালে সরকারের সমর্থন বাসদের নীতিনিষ্ঠ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ” এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে খালেকুজ্জামান বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি গণ মানুষের দাবি। আজ যে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছে তারাও অনুপ্রেরণা পেয়েছিলো সেদিনের হরতালে জনগণের সমর্থন দেখেই। তারপরই আমাদের পরবর্তী হরতালে সরকার আমাদের মারধর করেছিলো। তাহলে কি করে আমরা সরকারের পক্ষে যাচ্ছি। ”
 
বাসদ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আলাদা বলে খালেকুজ্জামান বলেন, “আমরা সব মতকেই গুরুত্ব  সহকারে বিবেচনা করি। আমরা  পারতাম তাদের দল থেকে বের করে দিতে, কিন্তু করিনি। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এমনকি এখনো বলছি তারা যদি কখনো দলে ফিরতে চায় তাহলে তাদের জন্য দরজা খোলা আছে। ”

তবে “আগামী ছয় মাস পর তারা যে কনভেনশন করবে তার আগেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে” বলে মন্তব্য করেন খালেকুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই চাই বাম রাজনীতির উন্নয়ন ঘটুক। এখন তারা যদি বাসদের মূল ধারা থেকে আলাদা হয়ে ভাল করতে পারে তাহলে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আমরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেবো। ”

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে চারবার ভাঙনের মুখে পড়ল দলটি। ১৯৮২ সালে আদর্শগত ও ব্যক্তিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বাসদ (মাহবুব) ও বাসদ (খালেকুজ্জামান) নামে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এরপর ২০০৫ সালে বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের তৎকালীন সভাপতি নুরুল ইসলামসহ একটি বড় অংশের নেতারা বাসদ ও ছাত্রফ্রন্ট থেকে পদত্যাগ করেন।

২০১০ সালের জুলাই মাসে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আবদুল্লাহ সরকার (প্রয়াত), সাইফুর রহমান তপনসহ কয়েকজন নেতা দল ছেড়ে যান। যদিও পরবর্তীতে তারা অন্য কোনো দলে যোগ দেননি বা নতুন দল গঠন করেন নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপ্লবী রাজনীতির তাত্ত্বিক শিবদাস ঘোষকে নিয়ে মতভিন্নতা, জোট-মহাজোটের বাইরে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে সিপিবির সঙ্গে বাসদের রাজনৈতিক ঐক্য, গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে দলীয় অবস্থান ও দলের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে এবারের ভাঙন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২,২০১৩
ইউএম / সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa