ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বইমেলা

স্বাধীনতাস্তম্ভের পাদদেশে মলাটবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ

আসাদ জামান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮০৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৫
স্বাধীনতাস্তম্ভের পাদদেশে মলাটবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ

বইমেলা থেকে: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে সোজা তাকালে প্রকাশনা সংস্থার স্টল বা প্যাভিলিয়ন নয়, প্রথমে চোখে পড়বে বাঙালি জাতির গর্বের ধন ‘স্বাধীনতাস্তম্ভ’।
 
কাচের তৈরি বিশাল এ টাওয়ার সন্ধ্যার পরই জ্বলে ওঠে।

জ্বলে ওঠে বাঙালির বুকের ভেতর সুপ্ত থাকা স্বাধীনতার তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও।
 
এবারের মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পাওয়ার মতো বেশ কিছু কাজ করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম মেলা থেকে স্বাধীনতাস্তম্ভ সরাসরি দেখার ব্যবস্থা।
 
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার পুরো প্রাঙ্গণ টিন দিয়ে না ঘিরে স্বাধীনতাস্তম্ভের সামনের অংশটা ঘেরা হয়েছে কাচের দেওয়াল সদৃশ স্বচ্ছ প্লাস্টিকবোর্ড দিয়ে। ফলে মেলায় ঢোকার পর পাঠক ও দর্শনার্থীর চোখ আটকে যাচ্ছে সেখানে।
 
বই কেনা বা বইয়ের গন্ধ নিতে মেলায় আসা মানুষগুলো মেলামাঠ থেকেই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত স্বাধীনতাস্তম্ভ। যেখানে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যেখানে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তানি বাহিনী।
 
শুধু কি মেলায় এসে স্বাধীনতাস্তম্ভ দেখেই ফিরে যাওয়া? নাকি স্বাধীনতাকে জানারও চেষ্টা আছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে।
 
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আগামী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ও অনন্যা’র প্যাভিলিয়নে ঢুঁ মারি।
 
ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্যাভিলিয়নে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই এক বিক্রয়কর্মী জানান, এবারের মেলায় তাদের সর্বাদিক বিক্রিত বই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।
 
পাঁচটি ফরম্যাটে প্রকাশিত বইটির ইংরেজি ভার্সনের বোর্ডপ্রিন্ট ১৫০০ টাকা, অফসেট প্রিন্ট ১২০০ টাকা, বাংলা ভার্সনের বোর্ডপ্রিন্ট ৬৫০ টাকা, অফসেট প্রিন্ট ৫২৫ ও স‍ুলভ প্রিন্ট ২২০ টাকা ধরা হলেও ক্রেতাদের সাড়া মিলছে খুব।
 
ইউপিএল থেকে বেরিয়ে আগামী প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা মিলল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সুরভী পালের। তার হাতে শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি।
 
পছন্দের বইয়ের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঠাঁই পাওয়া সম্পর্কে এ তিনি বলেন, কেবল ইতিহাসের ছাত্রী বলে নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার আগ্রহ থেকেই বইগুলো কেনা।
 
আগামী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে শেখ হাসিনার ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
 
মাওলা ব্রাদার্সের প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা মিলল ষাটোর্ধ্ব মুজিবুল হকের সঙ্গে। কামরাঙ্গীর চর থেকে বই কিনতে মেলায় এসেছেন প্রবীণ এই কলেজ শিক্ষক।
 
কি বই কিনছেন জিজ্ঞেস করতেই হাতে থাকা আবদুশ শাকুরের ‘বাঙালির মুক্তির গান,’ মুনতাসীর মামুনের, ‘রাজাকারের মন’ ও ‘বঙ্গবন্ধু কীভাবে স্বাধীনতা এনেছিলেন’ বই তিনটি এগিয়ে দিয়ে সদ্য অবসরে যাওয়া কলেজ শিক্ষক মুজিবুল হক বলেন, হাতে এখন অফুরন্ত সময়। তাই ইতিহাসের বইগুলো কিনে নিলাম। সারাজীবনই আমার পছন্দের বিষয় ছিলো ইতিহাস। বিশেষ করে রাজনীতির ইতিহাস।
 
শুধু প্রবীণরা নয়, মেলা ঘুরে দেখা গেছে অনেক নবীন পাঠকও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা বই কিনছেন।
 
অন্য দিনের মতো মঙ্গলবারও বিকেল ৩টায় একসঙ্গে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার গেট খোলা হয়। এর আধাঘণ্টা আগ থেকেই পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলার দুই প্রান্তের গেটে ভিড় জমায়। মেলার গেট উন্ম‍ুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে ভেতরে ঢোকেন তারা।
 
এদিকে মঙ্গলবারও বিকেল ৪টা থেকে মূলমঞ্চে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa