ঢাকা, বুধবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বইমেলা

সাব্বির খানের বইটি সময়ের দলিল

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৫৫২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৭
সাব্বির খানের বইটি সময়ের দলিল ‘পোড়া মৃতদেহের রাজনীতি ও সময়ের গল্প’

চলমান রাজনীতির চিত্র ধরে রাখতে বইটি দলিল হয়ে থাকলো... এ কথাটি অনায়াসে বলা চলে ‘পোড়া মৃতদেহের রাজনীতি ও সময়ের গল্প’ নামের বইটির ক্ষেত্রে। নামেই তা বোধগম্য। তবে বইটির আধেয় থেকে তা সুস্পষ্ট।

সাব্বির খানের লেখালেখির সাথে যাদের পরিচয় রয়েছে তারাতো জানেনই সহজ, সাবলীল ভাষায় তিনি রাজনীতির জটিল সব বিষয়দি, ঘটনাবলী লিখে ফেলেন অনায়াসে। ছোট ছোট বাক্যে বক্তব্যকে স্পষ্ট ফুটিয়ে তোলাই সাব্বির খানের লেখার ধরন।

ফলে তিনি প্রবন্ধ লিখলেও তা হয়ে থাকে সুখপাঠ্য। পাঠক আটকে থাকে তার লেখায়।

কিন্তু তা কি কেবলই প্রাঞ্জল ভাষায় লেখার জন্য?

না... তা নয়। সাব্বির খানের পাঠকরা তাকে পড়েন রাজনৈতিক কোনও ঘটনার গভীর থেকে তুলে আনা বিশ্লেষণকে বুঝে নিতে কিংবা উপলব্দি করতে।

‘পোড়া মৃতদেহের রাজনীতি ও সময়ের গল্প’ সাব্বির খানের এমন ডজন ডজন নিবন্ধ-প্রবন্ধের একটি। এটি লিখেছেন ২০১৩ সালের নভেম্বরের ৩০ তারিখে। বিএনপি-জামায়াত জোটের তখন চলছে জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন, টানা অবরোধ। মৃতের মাথা গুনে দেখলে “স্বল্প সময়ের চাহিদা অনুযায়ী জামায়াত-বিএনপির ‘প্রাপ্তি’ বিশাল” ঠিক এমনটাই লিখেছিলেন সাব্বির খান। সাধারণ মানুষের মনের প্রশ্ন উঠে এসেছিলো তার লেখায়। তারা জানতে চাচ্ছিলেন, “আসলে হচ্ছেটা কী দেশে?”

এই লেখায় সাব্বির খান, তার ভাষায়, তথাকথিত সুশীল সমাজ, বামধারার রাজনীতি আচার আচরণের পুঙ্খানুপুঙ্খু বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। সে সময়ে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখন তা বইয়ে স্থান পেয়েছে একেবারে নাম ভূমিকায়।  

২০১৩ থেকে ২০১৫ এই তিন বছরে দেশের বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সাব্বির খানের যেসব লেখা প্রকাশিত হয়, তা থেকে নির্বাচিত ৩৫টি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। ২০১৩ সালের নিবন্ধগুলোতে সে সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মকাণ্ড যেমন স্থান পেয়েছে, উঠে এসেছে হেফাজতে ইসলামের প্রসঙ্গও।

‘শফির বক্তব্য ও আমাদের পাথেয়’ শিরোনামের নিবন্ধে তিনি মৌলবাদী ভাবনাকে দুষেছেন বটে তবে প্রগতিশীল শক্তির দুর্বলতাকেই বেশি কটাক্ষ করেছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে কিছু কথা বলতে গিয়ে এই বিচারের গুরুত্ব কে আন্তর্জাতিকতার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন। অপর নিবন্ধে যাতে কোনও যুদ্ধাপরাধী সামান্য ছাড়টিও না পেতে পারে সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল অ্যাক্ট’র দ্রুত সংশোধন দাবি করেছেন।

একটা-দুটো নয় যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে এমন একের পর এক নিবন্ধ লিখে গেছেন সাব্বির খান, যার বেশ কয়েকটি বইয়ে স্থান পেয়েছে। আর প্রতিটি নিবন্ধই তথ্য-তত্ব, যুক্তিগ্রাহ্য বক্তব্যের সমাহার।

সবমিলিয়ে মৌলবাদের বিরুদ্ধে, প্রগতিশীলতার পক্ষে সাব্বির খান নিজে যেমন সোচ্চার, তার বই তারই ধারক ও বাহক।

বইটির ভূমিকায় কবি, ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক লিখেছেন- এই বইয়ে পাঠক সাব্বির খানের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও মতাদর্শের পরিচয় পাবেন। কারণ লেখক খোলামনে কোনো অস্পষ্টতা না রেখে তার আদর্শিক বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, কেউ তা সঠিক বা বেঠিক যাই মনে করুক।

সাব্বির খান ১৯৬৬ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়তার জন্য তিনি এরশাদ সরকারের কোপানলে পড়ে ১৯৮৯ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০২ সালে ওব্রেবু ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রি নেন। সুইডেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক হিসেবে ‘দ্যা ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন-সুইডেন’ এবং ‘সুইডিশ পেন’ এর সদস্য তিনি।

বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সাব্বির খানের বইটি প্রকাশিত হয়েছে অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে। বই মেলার ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮ ও ৪৯৯ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি।

বাংলাদেশ সময় ১০২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৭
এমএমকে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa