ঢাকা, বুধবার, ১০ বৈশাখ ১৪৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

বইমেলা

আনন্দ বিনোদন পারিবারিক মেলবন্ধের মেলা 

আসাদ জামান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭
আনন্দ বিনোদন পারিবারিক মেলবন্ধের মেলা  তিন শিশুর ফটোশুট চলছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইয়ের রেপ্লিকার উপর বসে; ছবি-আসাদ জামান

ঢাকা: লাল পাজামা, লাল ও সাদায় প্রিন্ট করা পাঞ্জাবি। প্রায় একই বয়স, একই উচ্চতা ও একই চেহারার তিন শিশুর ফটোশুট চলছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইয়ের রেপ্লিকার উপর বসে! চেহারা ও পোশাকের মিল এবং ছবি তোলার জন্য তাদের পারফেক্ট পোজ দেখতে দাঁড়িয়ে গেছে বেশ কয়েকজন কৌতূহলী দর্শক।

কিন্তু মা-খালার সঙ্গে মেলায় আসা সাড়ে ৫ বছর বয়সী সামি ইবনে নাহিয়ান, পাঁচ বছর দুই মাস বয়সী জোহায়ের জান্নাত রোদসী ও তার বোন চার বছর বয়সী জাকিউল জান্নাত নাফসির অমর একুশে গ্রন্থমেলার অর্থ কী?
 
বই বলতে তো তারা বোঝে ঝকঝকে ছবিওয়ালা প্লাস্টিকে বাঁধাই করা দুই মলাটের খেলনা। যেটা পড়ার চেয়ে হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করা এবং এক সময় তা ছিড়ে ফেলার মধ্যে আনন্দ!
 
কিন্তু সেই বই’ই তো কেনা হলো না।

সামি, রোদসী, নাফসি’র মা-খালা হাসিনা খাতুন লিপি ও নাসিমা খাতুন পপি মেলায় এক চক্কর দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে ছুটলেন পাশের শিশু পার্কে। সেখানে বাচ্চাদের বিনোদন শেষে ঘরে ফিরবেন।
 
কথা হয় লিপি ও পপির সঙ্গে। বাংলানিউজকে তারা দু’জন যা বললেন, তার সারসংক্ষেপ হলো- দুই বোন ঢাকার দুইপ্রান্তে থাকেন। একজন উত্তরায়। আরেকজন আরমানিটোলায়। ব্যস্ততার কারণে দেখা সাক্ষাৎ খুব কম হয়। বইমেলা উপলক্ষে ‍উত্তরা থেকে শাহবাগ এসেছেন পপি, আরমানিটোলা থেকে লিপি।
 
খালাতো ভাই-বোনদের বয়স ও চেহারা কাছাকাছি হওয়া আগে থেকে প্লান করে একই রকম পাজামা-পাঞ্জাবি বানিয়ে রেখেছেন লিপি। তাদের কাছে মেলা থেকে বই কেনা বড় নয়, পারিবারিক মেলবন্ধনটাই মুখ্য।
 
২০১৫ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাজসজ্জার দায়িত্ব পাওয়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্টেপ মিডিয়া তাদের প্রচারণা রেপ্লিকায় লিখেছিলো ‘বই কিনুন, প্রিয়জনকে বই উপহার দিন, বই কিনলেই পড়তে হবে-এমনটি নয়’!

বইমেলায় ছোট্টশিশুকে নিয়ে নিয়ে বই অনুরাগী মা; ছবি- রানাদারুণ সত্য কথা- বই কিনলেই পড়তে হবে কেন? বই কি শুধু পড়ার জন্য? ঘরে সাজিয়ে রাখলে আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে। হাতে নিলে ইজ্জত বাড়ে।

এতগুলো সুযোগ এক সঙ্গে ধরা দিলেও মেলায় কেবল বই কেনার জন্য সবাই আসে- এমনটি নয়। বরং মেলায় বিনোদিত হবার জন্য আসা লোকের সংখ্যাই বেশি। আনন্দ বিনোদন পারিবারিক মেলবন্ধের জন্য মেলায় আসার পর পছন্দের বা ভালো লাগা বই পেলে মানুষ কিনে নিয়ে যায়। সেটাও বা কম কিসের?
 
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মেলায় আসা বই কেনা লোকের সংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি নয়। ৯০ ভাগ লোক মেলায় আসে ঘোরাফেরা, গল্প, আড্ডা ও চিত্ত বিনোদনের জন্য।
 
সম্প্রতি বিশিষ্ট গবেষক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান বলেছেন, মেলায় প্রবেশ ফি পাঁচ বা দশ টাকা নির্ধারণ করা হলে ভিড় অর্ধেক কমে যাবে। একেবারে উন্মুক্ত করে দেওয়ায় অনেকেই খামোখা মেলায় এসে ভিড় জমায়।
 
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মেলার দরজা খোলা হয় বিকেল ৩ টায়। মেলা চলে রাত সাড়ে ৮টা পযর্ন্ত। বিকেলে মেলার মূল মঞ্চে ৭০ দশকের কবিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন-কবি অসীম সাহা। সন্ধ্যায় মূল মঞ্চে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  
 
বাংলাদেশ সময়: ২০১১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭
এজেড/আরআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।