ঢাকা, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

বইমেলা

প্রধানমন্ত্রীর প্রুফ রিডিংয়ে ‘মুজিব-৩’

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭
প্রধানমন্ত্রীর প্রুফ রিডিংয়ে ‘মুজিব-৩’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান, ছবি: জিএম মুজিবুর

গ্রন্থমেলা থেকে: এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে গ্রাফিক নোবেলের তৃতীয় সিরিজ ‘মুজিব-৩’।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গ্রন্থমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) স্টলে গ্রাফিক নোভেলটির মোড়ক উন্মোচন করেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

মোড়ক উন্মোচনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বইটির প্রুফ রিড থেকে শুরু করে সম্পাদনা করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যেসব জায়গায় অসঙ্গতি ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করতে বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীকে ছোট করে প্রকাশ করা এবং শিশুদের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা থেকেই এই গ্রাফিক নোভেল মুজিব সিরিজের প্রকাশ। এর আগে এই সিরিজের ২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবার মুজব-৩ প্রকাশিত হলো। পরবর্তীতে এর আরও ৯টি খণ্ড প্রকাশিত হবে।

গ্রাফিক নোভেলটির একজন প্রকাশক হিসেবে নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বইটির প্রুফ রিড করেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন। এই কাজে তিনি বেশ সময়ও নিয়েছেন। চিত্রের যে জায়গাগুলোতে সমস্যা ছিল সেগুলো চিহ্নিত করেছেন। যেমন বঙ্গবন্ধু তরুণ বয়সে কেমন ছিলেন, সেই চিত্রটি পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, গোঁফটি প্রথমে ঠিক মতো হয়নি। পরে পরিবর্তন করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৫ সালে বা ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু কেমন ছিলেন, সেটি অনুধাবন করে ছবি দেওয়া এতোটা সহজ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি দেখেছেন।

এ সময় অারও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদেশে বাঙালি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বইটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।
বই হাতে শিশুরা, ছবি: জিএম মুজিবুররোববার থেকে সিআরআই স্টলে (স্টল নং ১০০ এবং ১০১) পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে রচিত গ্রাফিক নোভেল ‘মুজিব-৩’। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংসদ সদস্য (এমপি) নাহিম রাজ্জাক, শিল্পী রাশাদ ইমাম তন্ময়সহ আরও অনেকে।

এক বার্তায় প্রকাশকের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি বলেন, ছোটবেলা থেকে মা-খালার কাছ থেকে নানার অনেক গল্প শুনতাম এবং অনেক প্রশ্ন করতাম। নানা কেমন ছিলেন, উনি কি করতেন ইত্যাদি। দুঃখের বিষয় মার কাছ থেকে গল্প শুনে স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের বলতাম। তারপর দেখতাম অনেকে স্কুলে নানার নামই শুনেনি। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে খুব ঘাবড়ে যেতেন। আমাকে বঙ্গবন্ধুর কথা স্কুলে বলতে নিষেধ করতেন। বঙ্গবন্ধুর কথা স্কুলে বলতে হয় না। এসব শুনে খুব খারাপ লাগতো। মাকে বলতাম তুমি নানার কথা বলো তাকে কেউ চেনে না। শিক্ষকরা নানার কথা বললে ঘাবড়ে যায়।

এসব কথা শুনে মা বলতেন, তোমার নানার অনেক ধৈর্য ছিল। ধৈর্য ধরে থাকো একদিন না একদিন সত্য কথা বেরিয়ে আসবে।

রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি বলেন, তারপর বড় হতে থাকলাম। ম্যান্ডেলা, উইনস্টন চার্চিল, নেহেরু, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসু, গান্ধীসহ বিশ্বের বড় বড় নেতার কমিক পড়তাম। এসব পড়ে পড়ে ভাবতাম একদিন না একদিন আমি নানাকে নিয়ে কমিক তৈরি করবো। নতুন প্রজন্ম কমিক পড়ে সবকিছু জানতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর হাতে লেখা নোটবুক পাবার পর মা-খালার জন্য অসমাপ্ত আত্মজীবনী বের করা সত্যিই কঠিন ছিল। আমাদের জন্য বিষয়টি অন্যরকম ছিল। তার লেখা হাতে পাওয়ার পর অনুভূতি বোঝাতে পারবো না। তখন মনে হলো সত্যিই নানার সঙ্গে কথা বলছি। বই দুটি প্রকাশিত হওয়ার পর আমার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কমিক নোবেল বের করলে তরুণ প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭/আপডেট ১৯৫৩ ঘণ্টা
এমএন/আইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।