ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ কার্তিক ১৪৩১, ০১ নভেম্বর ২০২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৬

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

কলকাতায় বাংলাদেশি প্রকাশকদের প্রতারণা: অভিযোগ সত্যজিৎপুত্রের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১১
কলকাতায় বাংলাদেশি প্রকাশকদের প্রতারণা: অভিযোগ সত্যজিৎপুত্রের

কলকাতা: বাংলাদেশের ২টি প্রকাশনী সংস্থার বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব আইন (কপিরাইট আইন) না মেনে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার শেষ হওয়া কলকাতায় ৫দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশের বইমেলা’য় এ প্রতারণার কথা অনেকের মুখেমুখে ছড়িয়ে পড়ে।



বইয়ের মতো সৃজনশীল একটি বিষয়ে এমন প্রতারণার খবর পেয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় সংশ্লিষ্টদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করারও প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার অভিযোগের তীর সরাসরি বাংলাদেশের ২টি প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে। অভিযোগ এ দুটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেধাস্বত্ব না মেনে অবৈধভাবে এদেশে ভারতীয় লেখকদের বই প্রকাশ করছে।    

কলকাতা বইমেলা চলাকালে এদেশের প্রকাশকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের কথা সেদেশের কয়েকজন সাহিত্যিক ও প্রকাশকের মুখে বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছিল। এদের মধ্যে সন্দীপ রায়ই সরাসরি অভিযোগগুলো নিয়ে সরব হয়েছেন। সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। মেলার উদ্বোধনী দিনেই তিনি বিষয়টি অনেকের দৃষ্টিগোচর করেন।       

বাংলাদেশি প্রকাশকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে সন্দীপ রায় বাংলানিউজকে বলেন,  ‘ঢাকার বাংলাবাজারের ২টি প্রকাশনা সংস্থা আমাদের কাছ থেকে কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সত্যজিৎ রায়ের লেখা বই প্রকাশ ও বিক্রি করছে। ’

সন্দীপ রায় বলেন, ‘আশির দশকের শুরুতে প্রয়াত সত্যজিৎ রায় বাংলাদেশে তার রচিত বইগুলো প্রকাশ করার জন্য লিখিত অনুমতি দেন বাংলাবাজারের প্রকাশন সংস্থা ‘নওরোজ কিতাবিস্তানে’র আবদুল কাদির খানকে। এরপর থেকেই এই বইগুলো তারা প্রকাশ করে আসছে। ’

সত্যজিৎ রায়ের এই সুযোগ্য পুত্র বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পরে আমি একমাত্র উত্তরাধিকারি হিসাবে বইগুলি প্রকাশ ও বিক্রির জন্য আবারও নওরোজ কিতাবিস্তানের বর্তমান স্বত্বাধিকারী মনজুর খান চৌধুরীকে অনুমতি দিই। ’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের কপিরাইট আইন মেনেই এ অনুমতি মনজুর খানকে দেওয়া হয়। ’

সন্দীপ ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ‘নওরোজ সাহিত্য সম্ভার’ ও ‘নালন্দা’ নামে ২টি সংস্থা আমার বাবার রচিত বইগুলি কোনও ধরনের অনুমতি না নিয়েই প্রকাশ ও বিক্রি করে যাচ্ছে। যা আইনত অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, ‘নিন্মমানের ছাপা ও সম্পাদনার কারণে বাংলাদেশের পাঠকমহলে সত্যজিৎ রায়ের সম্মানহানি ঘটছে। যা কখনই কাম্য নয়। ’

সত্যজিৎ রায়ের বাংলাদেশে প্রকাশের অনুমতি পাওয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘নওরোজ কিতাবিস্তানে’র মনজুর খান চৌধুরী এ ব্যাপারে বাংলানিউজকে বলেন, ‘কিছু প্রকাশকের অসততা ও মিথ্যাচারিতার কারণে আমরা ব্যবসায়িকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছি। ’

তিনি বলেন, ‘এদেশের কয়েকজন প্রকাশকের জন্য ভারতীয় লেখকরা বাংলাদেশে বই প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো প্রকাশকদের বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিতে হবে। ’

ঠিক একই অভিযোগ করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও। বাংলাদেশের বইমেলায় তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের দুর্বলতার কারণে আমরা যেমন বাংলাদেশে বই প্রকাশের আগ্রহ হারাচ্ছি, তেমনি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশকরাও এই জটিলতার আমাদের বই প্রকাশ করতে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এর সাথে রয়েছে পাইরেসির সমস্যা। সব মিলিয়ে আঘাতটা আসছে বাঙালি পাঠকের ওপর তারা ভালো সাহিত্য পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ’

সত্যজিৎ রায়ের বই প্রকাশকারীদের মধ্যে নালন্দা থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘সত্যজিৎ রায় রচনাবলী’। ৯ খণ্ডে প্রকাশিত এই বইয়ের দাম ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা। এছাড়া ‘নওরোজ সাহিত্য সম্ভার’ও অন্তত ১৩টি বই প্রকাশ করেছে।   
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত প্রকাশনা সংস্থা ‘নালন্দা’র স্বত্বাধিকারি রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল কলকাতায় বাংলানিউজের কাছে সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ভারতীয় কোনও লেখকের বই প্রকাশ করিনি। ’

নওরোজ সাহিত্য সম্ভারের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার রসুল জর্জ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা সন্দীপ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নভেম্বরে আমি কলকাতা গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবো। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোনও চুক্তি না হলেও সন্দীপ রায়ের সঙ্গে আমার ছেলে ২/৩বার দেখা করে এসেছেন। ’ 

বাংলাদেশ সময়:২১০০ ঘন্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।