মাদারীপুর: কারো কারো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি, কারো বা একমাত্র সন্তান, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে স্বজন হারানো এমন ১৮ পরিবারের এবারের ঈদ কাটলো বিষাদে।
পরিবার গুলোতে ছিল না ঈদের কোনো প্রস্তুতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাদারীপুর জেলা সদরের ঘটমাঝি ইউনিয়নের খাগদী এলাকায় ছেলের কবরের পাশে দিনের অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছেন শহীদ রোমান বেপারীর মা রিনা বেগম। আগের বছর রোজার ঈদের মা-বাবা স্ত্রী-সন্তানকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়ে পুরো পরিবারকে আনন্দে মাতিয়ে রেখেছিলেন রোমান। সেই স্মৃতি এখন ধূসর! গত বছরের ১৯ জুলাই মাদারীপুর জেলা সদরের যুব উন্নয়ন অফিসের সামনে যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ প্রশাসনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংর্ঘষে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রোমান বেপারী।
আবার জেলার শিবচর উপজেলার হৃদয়ের পরিবার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এখনও। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব বাবা-মা। ঢাকায় ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে সংসার চালাতো নিহত হৃদয়। জুলাই আন্দোলনে দুপুরে খাবার খেয়ে কারখানায় ফেরার সময় গুলিতে নিহত হয় সে। এবারের ঈদ সন্তান হারানোর বেদনা বাড়িয়ে দিয়েছে এই পরিবারে।
শুধু রোমান বেপারী বা হৃদয়ই নয়, মাদারীপুরের আরো ১৬ শহীদ পরিবারে একই চিত্র। কেউ স্বামী, কেউ বাবা ও কেউ সন্তান হারিয়ে শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারগুলোয় এখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। সেখানে ঈদ তাদের হারানোর ক্ষতকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে। সপরিবারে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার কথা মনে হলেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন স্বজনরা।
এ ব্যাপারে শহীদ রোমান বেপারীর মা রিনা বেগম বলেন, ‘এবার আমাদের ঈদ নাই। গতবার আমার পোলায় সবাইকে জামা কাপড় দিছে। সেই কথা মনে পড়লে রাতে ঘুমাতে পারি না। ছেলের কবরের পাশে বসে থাকি। রোমানের স্ত্রী ও সন্তান তাদের নানা বাড়িতে থাকে। কেউ এখন আর খোঁজ নেয় না!’
শহীদ মামুনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে এখনো তার বাবাকে খোঁজে। সারা দিন বাবার ছবি নিয়ে চুমা দেয়। গতবার পুরো পরিবার আনন্দে কাটিয়েছি। এবার আমাদের ঈদের কোনো চিহ্ন নাই। এছাড়া এখনো কোনো টাকা পয়সা আমরা পাইনি। দিবে দিবে করেও তারা টাকা দেয়নি। ’
তবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে কিছু পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এদিকে সব নিহতের পরিবার এখনো আর্থিক সহযোগিতা পায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শহীদ পরিবারের পাশে আছেন বলে জানান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মো. সজীব। তিনি বলেন, যারা এখনো জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগিতা পায়নি, তাদের কাগজপত্রের কারণে হয়ত পাইনি। তবে আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।
তিনি আরো বলেন, সরকারী হিসেবে মাদারীপুর জেলায় এ পর্যন্ত নিহতের তালিকায় ১৮ জন, এর মধ্যে একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের। এছাড়া আহতের তালিকায় রয়েছেন ১৫৩ জন। এদের বিভিন্ন ভাবে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
এমএম