ঢাকা, বুধবার, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

দেশ থেকে তথ্য দিলে বিদেশে অপহরণ, মূল হোতা গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩, ২০২২
দেশ থেকে তথ্য দিলে বিদেশে অপহরণ, মূল হোতা গ্রেফতার সাইফুর আকন ওরফে নাসির

ঢাকা: ২০১৯ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিস বসবাসকালীন বাংলাদেশি আবু ইউসুফকে (২৬) অপহরণ করে একটি চক্র। কয়েকজন বাংলাদেশির মিলিত এ চক্রটি তাকে ৭-৮ দিন অজ্ঞাত একটি স্থানে রেখে নির্যাতন চালায়।

পরবর্তীতে দেশে তার বড় ভাই ও মায়ের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় তারা। ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হলে আবু ইউসুফকে মুক্তি দেয় অপহরণকারী দলটি। এ অর্থের ভাগ আসে ঢাকায় চক্রের মূল হোতার কাছে।

ইউসুফের মুক্তির পর তার পরিবার বাংলাদেশ ব্যাংক মারফত একটি অভিযোগ দায়ের করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি অনুসন্ধানপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) জানায়। সদস্যরা তদন্ত অভিযানে নেমে গতকাল রোববার (২ অক্টোবর) সাইফুর আকন ওরফে নাসির (৩৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, নাসির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারকারী চক্রের মূলহোতা। সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসএসপি হুমায়ুন বলেন, গ্রিসে ভুক্তভোগী আবু ইউসুফকে যারা অপহরণ করেছিল, তারা সবাই বাংলাদেশি। দেশটির অপহরণকারী চক্রের সঙ্গেও তারা জড়িত। ইউসুফকে অপহরণ করে ৭-৮ দিন নির্যাতন চালানোর পর তার মা সালমা বেগম ও বড় ভাই সজল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে চক্রের সদস্যরা। উপায় না পেয়ে তারা চক্রটিকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ বাবদ দেন। এ অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর একটি ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দেয় ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে ভুক্তভোগীর মা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার বরাবর লিখিত একটি অভিযোগ করেন। পরে ওই ব্যাংক বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়। বিষয়টি অনুসন্ধানপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিআইডি’তে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠায়।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম শাখা টাকা পাঠানোর ব্যাংক হিসাবের বিবরণী নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাবে মুক্তিপণের টাকা গ্রহণের সত্যতাসহ ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের ২৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পায়। সব তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি সাইফুর আকন ওরফে নাসিরকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

এরই মধ্যে মামলার তদন্ত শেষে নাসিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. হুমায়ুন কবির।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩, ২০২২
এসজেএ/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa